“গণতন্ত্র” হলো একটি শাসনব্যবস্থা যেখানে ক্ষমতা সরাসরি বা প্রতিনিধিদের মাধ্যমে জনগণের হাতে থাকে। এটি মানুষের স্বাধীনতা, অধিকার এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রতীক।
আমি তোমাকে গণতন্ত্র সম্পর্কে বিস্তারিত ও সহজ ভাষায় বলছি:
গণতন্ত্র কী?
গণতন্ত্র (Democracy) শব্দের অর্থ হলো “জনগণের শাসন”। এখানে দেশের শাসন ব্যবস্থায় জনগণ সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ।
গণতন্ত্রের মূল বৈশিষ্ট্য
- জনতা শাসক: জনগণ নিজেদের প্রতিনিধি নির্বাচন করে বা সরাসরি শাসনে অংশ নেয়।
- ভোটাধিকার: সব প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের ভোট দেওয়ার অধিকার থাকে।
- মত প্রকাশের স্বাধীনতা: সবাই নিজের মতামত স্বাধীনভাবে প্রকাশ করতে পারে।
- আইনের শাসন: সবাই আইনের আওতায় এবং আইনের সমান অধিকারপ্রাপ্ত।
- অধিকার ও স্বাধীনতা: ব্যক্তি স্বাধীনতা ও মানবাধিকারের নিশ্চয়তা।
- স্বাধীন সংবাদ মাধ্যম: তথ্য পরিবেশনের স্বাধীনতা ও সরকারের প্রতি সমালোচনার সুযোগ।
- শাসনের স্বচ্ছতা: সরকারের কাজ জনগণের সামনে প্রকাশ্য থাকে।
গণতন্ত্রের ধরণ
১. প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র (Direct Democracy)
- যেখানে জনগণ সরাসরি শাসনের সিদ্ধান্তে অংশ নেয়।
- সাধারণত ছোট রাষ্ট্র বা কম জনসংখ্যার ক্ষেত্রে হয়।
২. প্রতিনিধি গণতন্ত্র (Representative Democracy)
- যেখানে জনগণ নিজেদের প্রতিনিধি নির্বাচন করে শাসন পরিচালনার দায়িত্ব দেয়।
- আধুনিক রাষ্ট্রগুলোর প্রধান শাসনব্যবস্থা।
গণতন্ত্রের উপকারিতা
- জনগণের অংশগ্রহণ: দেশের উন্নয়ন ও শাসনে সক্রিয় অংশগ্রহণ।
- অধিকার সুরক্ষা: ব্যক্তির মৌলিক অধিকার রক্ষা পায়।
- স্বাধীনতা: মত প্রকাশ, ধর্ম পালন ও সাংবাদিকতার স্বাধীনতা নিশ্চিত।
- ন্যায়বিচার: সকলের জন্য আইনের সমান প্রয়োগ।
- অপরাধ দমন: দুর্নীতি ও অত্যাচার কমে।
- অবাধ নির্বাচন: শাসন পরিবর্তনের সুযোগ।
গণতন্ত্রের সমস্যাসমূহ
- ভোটে ভুল নির্বাচন হতে পারে।
- রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতবিরোধ।
- জনগণের মধ্যে অসচেতনতা ও বিভ্রান্তি।
- দুর্নীতি ও স্বার্থপরতা।
গণতন্ত্রের উদাহরণ
- বাংলাদেশ, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, ফ্রান্স ইত্যাদি দেশ গণতান্ত্রিক দেশ।