Upper Primary Previous Year Question Bengali (বিভাগ-II – ভাষা: বাংলা)

Passage 1 (গদ্যাংশ)

প্যাসেজ:
যিনি বিজ্ঞানের একনিষ্ঠ সেবক, তিনি ধীরভাবে ভ্রমপ্রমাদ যথাসাধ্য পরিহার করে সত্যের সন্ধান করেন, প্রবাদকে প্রমাণ মনে করেন না; প্রচুর প্রমাণ না পেলে কোনও নূতন সিদ্ধান্ত মানেন না; অন্য বিজ্ঞানীর ভিন্ন মত থাকলে অসহিষ্ণু হন না, এবং সুপ্রচলিত মত ও অন্ধভাবে আঁকড়ে থাকেন না, উপযুক্ত প্রমাণ পেলেই বিনা দ্বিধায় মত বদলাতে পারেন। জগতের শিক্ষিত জন যদি সকল ক্ষেত্রে এই প্রকার উদার বৈজ্ঞানিক বুদ্ধি প্রয়োগ করতে শেখেন তবে কেবল সাধারণ ভ্রান্ত-সংস্কার দূর হবে না, ধর্মান্ধতা ও রাজনীতিক সংর্ঘষেরও অবসান হবে।


প্রশ্ন ও উত্তর (Passage 1)

১। ‘প্রবাদ’ শব্দের অর্থ কী?
(A) আজগুবি কিংবদন্তী
(B) প্রচলিত ছড়া
(C) পরম্পরাগত বাক্য বা জনশ্রুতি
(D) নীতিকথা ও ধাঁধা।

উত্তর: (C) পরম্পরাগত বাক্য বা জনশ্রুতি
কারণ: প্রবাদ বলতে আমরা বুঝি জনশ্রুতি বা ঐতিহ্যগত বাক্য যা প্রায়ই জীবনদর্শন বা নীতিকথার রূপে ব্যবহৃত হয়।


২। বিজ্ঞানের একনিষ্ঠ সেবক কেমন হন?
(A) সত্যের সন্ধান করেন না
(B) সুপ্রচলিত মত ও অন্ধভাবে আঁকড়ে থাকেন না
(C) নূতন সিদ্ধান্ত প্রমাণ না পেলেও মানেন
(D) ভ্রমপ্রমাদ পরিহার করেন না।

উত্তর: (B) সুপ্রচলিত মত ও অন্ধভাবে আঁকড়ে থাকেন না
কারণ: গদ্যাংশে বলা হয়েছে, বিজ্ঞানের সেবক প্রমাণ পেলে মত বদলাতে পারেন এবং অন্ধভাবে কোনো মত আঁকড়ে থাকেন না।


৩। ‘বিজ্ঞান’ শব্দের প্রকৃতি প্রত্যয় বিশ্লেষণ করুন:
(A) বিজ্ঞ + আন
(B) বিজ্ঞা + অনট
(C) বি-জ্ঞা + অন
(D) বিজ্ঞ + অনট।

উত্তর: (A) বিজ্ঞ + আন
কারণ: বিজ্ঞ+আন শব্দদ্বয় মিলিয়ে ‘বিজ্ঞান’ শব্দ গঠিত।


৪। ‘অসহিষ্ণু’ শব্দটি কী সমাস?
(A) কর্মধারয়
(B) নঞ তৎপুরুষ
(C) সমাহার দ্বিগু
(D) দ্বন্দ্ব।

উত্তর: (B) নঞ তৎপুরুষ
কারণ: অসহিষ্ণু শব্দটি নঞ তৎপুরুষ সমাস, যেখানে ‘অ’ অংশটি ‘না’ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।


৫। যথাসাধ্য শব্দটি কোন প্রকার পদ?
(A) সন্ধিবদ্ধ পদ
(B) প্রত্যয় নিষ্পন্ন পদ
(C) সমাসবদ্ধ পদ
(D) আগের কোনওটিই নয়।

উত্তর: (A) সন্ধিবদ্ধ পদ
কারণ: ‘যথাসাধ্য’ শব্দটি ‘যথা + সাধ্য’ এই দুই শব্দের সন্ধিবদ্ধ রূপ।


৬। ‘পরিহার’ শব্দের পদান্তর করলে হয়:
(A) পরিহার্য
(B) পারিহার
(C) পরিহারি
(D) পরিহার্যতা।

উত্তর: (A) পরিহার্য
কারণ: ‘পরিহার’ এর পদান্তর ‘পরিহার্য’।


৭। ‘ধর্মান্ধতা’ শব্দের অর্থ কী?
(A) অন্ধের ধর্ম বিশ্বাস
(B) ধর্মকে অন্ধত্ব মনে করা
(C) ধর্মের প্রতি অন্ধ বিশ্বাস
(D) অন্ধজনের ধর্ম।

উত্তর: (C) ধর্মের প্রতি অন্ধ বিশ্বাস
কারণ: ধর্মান্ধতা মানে ধর্মের প্রতি অন্ধবিশ্বাস বা সঠিক যুক্তি ছাড়া পূজা বা বিশ্বাস করা।


Passage 2 (Poem)

প্যাসেজ:
হায় চিল, সোনালি ডানার চিল, এই ভিজে মেঘের দুপুরে
তুমি আর কেঁদো নাকো উড়ে উড়ে ধানসিঁড়ি নদীটির পাশে!
তোমার কান্নার সুরে বেতের ফলের মতো তার ম্লান চোখ মনে আসে।
পৃথিবীর রাঙা রাজকন্যাদের মত সে যে চলে গেছে রূপ নিয়ে দূরে;
আবার তাহারে কেন ডেকে আনো?
কে হায় হৃদয় খুঁড়ে
বেদনা জাগাতে ভালোবাসে।


প্রশ্ন ও উত্তর (Passage 2)

১। চোখকে কার সাথে তুলনা করা হয়েছে?
(A) ভিজে মেঘ
(B) রাঙা রাজকন্যা
(C) বেতের ফল
(D) কোনওটিই নয়।

উত্তর: (C) বেতের ফল
কারণ: চোখের ম্লান ভাব বেতের ফলের মতো মনে হয়েছে।


২। ‘খুঁড়ে’ শব্দটিতে ধ্বনি পরিবর্তনের কোন নিয়ম অনুসৃত হয়েছে?
(A) নাসিক্যীভবন
(B) স্বরসঙ্গতি
(C) অভিশ্রুতি
(D) সমীভবন।

উত্তর: (D) সমীভবন
কারণ: ‘খুঁড়ে’ শব্দটি ‘খুঁড়’ + ‘য়ে’ এর মিলন বা সমীভবনের ফল।


৩। কান্না শব্দের সন্ধিবিচ্ছেদ কী?
(A) কান্ + না
(B) ক + আন্না
(C) কাঁদ + আন্না
(D) কাঁদ্ + না।

উত্তর: (D) কাঁদ্ + না
কারণ: কান্না শব্দটি কাঁদ্ + না এর সন্ধিবদ্ধ রূপ।


৪। ‘সোনালি’ শব্দে কী জাতীয় প্রত্যয় প্রযুক্ত হয়েছে?
(A) বিদেশী তদ্ধিত প্রত্যয়
(B) বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়
(C) সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়
(D) সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়।

উত্তর: (D) সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়
কারণ: ‘-লি’ এখানে সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়।


৫। চিল কাঁদে যে নদীর পাশে, তা হল
(A) গঙ্গা নদী
(B) ইছামতী নদী
(C) ধানসিঁড়ি নদী
(D) তিস্তা নদী।

উত্তর: (C) ধানসিঁড়ি নদী
কারণ: কবিতায় ‘ধানসিঁড়ি নদী’ উল্লেখ আছে।


৬। কবির ইচ্ছা করে না
(A) ধানসিঁড়ি নদীর পাশে কাঁদতে
(B) ভিজে মেঘের দুপুরে উড়ে বেড়াতে
(C) হৃদয় খুঁড়ে বেদনা জাগাতে
(D) একা একা কাঁদতে।

উত্তর: (C) হৃদয় খুঁড়ে বেদনা জাগাতে
কারণ: কবি বলে ‘বেদনা জাগাতে ভালোবাসে না’।


৭। হৃদয় খুঁড়ে বেদনা জাগাতে কে ভালোবাসে না?
(A) রাজকন্যা
(B) চিল
(C) নদী
(D) কেউ-ই না।

উত্তর: (D) কেউ-ই না
কারণ: কবি প্রশ্ন তুলে যে ‘কে হায় হৃদয় খুঁড়ে বেদনা জাগাতে ভালোবাসে’। অর্থাৎ কেউ ভালোবাসে না।


৮। ‘হৃদয়’ কী পদ?
(A) ক্রিয়া
(B) বিশেষণ
(C) বিশেষ্য
(D) বিশেষণের বিশেষণ।

উত্তর: (C) বিশেষ্য
কারণ: হৃদয় একটি নাম, অর্থাৎ বিশেষ্য পদ।


Part B (Pedagogy)

১। মূল্যায়নের (Assessment) উদ্দেশ্য কী?
(A) শিক্ষার্থীর ভুলগুলি চিহ্নিত করা
(B) শিক্ষার্থী পরবর্তী শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হতে পারবে কি না তা ঠিক করা
(C) শিক্ষার্থীর জ্ঞানের ও দক্ষতার পরিমাপ করা
(D) শিক্ষার্থীর বিদ্যার্জনে কোনো ফাঁক (gap) থাকলে তা পূর্ণ করার জন্য পদক্ষেপ নেওয়া।

উত্তর: (D) শিক্ষার্থীর বিদ্যার্জনে কোনো ফাঁক (gap) থাকলে তা পূর্ণ করার জন্য পদক্ষেপ নেওয়া।
কারণ: মূল্যায়নের মূল লক্ষ্য শিক্ষার্থীর শেখার ফাঁক শনাক্ত করে তা পূরণ করা।


২। ভাষা-শিক্ষণ সহায়ক উপকরণের প্রকৃত দায়িত্ব কী?
(A) কম সময়ে অধিক জ্ঞান দান করা
(B) শিক্ষকদের পরিশ্রম লাঘব করা
(C) বিষয়বস্তুর কঠিন জায়গাগুলি সরল ও স্পষ্ট করা
(D) ছাত্রছাত্রীদের পাঠে মনোযোগী করা।

উত্তর: (C) বিষয়বস্তুর কঠিন জায়গাগুলি সরল ও স্পষ্ট করা
কারণ: ভাষা শিক্ষায় উপকরণ কঠিন বিষয় সহজতর করে।


৩। শিশুদের শুদ্ধ ভাষা শেখানোর জন্য শিক্ষক কী উপর জোর দেবেন?
(A) কানে শোনার অভ্যাস গঠন করা
(B) স্পষ্ট উচ্চারণের অভ্যাস গঠন করা
(C) ওপরের দুটিই
(D) কোনটিই নয়।

উত্তর: (C) ওপরের দুটিই
কারণ: শুদ্ধ ভাষার জন্য শুনতে শোনার এবং স্পষ্ট উচ্চারণ উভয়ই প্রয়োজন।


৪। বানান শিক্ষার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য শিক্ষামূলক প্রদীপন কী?
(A) পাঠ্যপুস্তক
(B) সংবাদপত্র ও গল্পের বই
(C) চার্ট
(D) এগুলির সবকটি।

উত্তর: (D) এগুলির সবকটি
কারণ: বানান শিক্ষা বিভিন্ন মাধ্যম থেকে নেওয়া উচিত।


৫। ভাষাশিক্ষায় লিঙাফোন পদ্ধতি কী?
(A) বিভিন্ন বর্ণ ও শব্দের বিশুদ্ধ উচ্চারণ রেকর্ড করা
(B) পরিচিত কয়েকটি শব্দ বেছে নিয়ে উচ্চারণ ও বানান শিক্ষা দেওয়া
(C) পরিচিত শব্দ নিয়ে ছোট বাক্য লিখে দেওয়া
(D) নানারকম শব্দ ও ছবির মাধ্যমে ভাষাশিক্ষা দেওয়া।

উত্তর: (A) বিভিন্ন বর্ণ ও শব্দের বিশুদ্ধ উচ্চারণ রেকর্ড করা
কারণ: লিঙাফোন পদ্ধতি শব্দ উচ্চারণ রেকর্ড ও ব্যবহার করে শেখায়।


৬। বানান ভুল প্রতিকার করবেন কীভাবে?
(A) শিক্ষক ব্ল্যাকবোর্ডে সঠিক বানান স্পষ্ট করে লিখবেন
(B) যুক্তাক্ষর গঠন ও উচ্চারণ অবহিত করবেন
(C) শিক্ষার্থীকে বানানে মনোযোগী ও আগ্রহী করে বারবার অনুশীলন করাবেন
(D) উপরের সবকটি।

উত্তর: (D) উপরের সবকটি
কারণ: বানান শুদ্ধির জন্য এসব কাজই প্রয়োজন।


৭। শিক্ষার্থী পিছিয়ে পড়লে শিক্ষক কী করবেন?
(A) ছাত্রকে শাস্তি দেবেন
(B) অভিভাবককে জানাবেন
(C) পিছিয়ে থাকার কারণ খুঁজবেন
(D) ক্লাসে সতর্ক করে দেবেন।

উত্তর: (C) পিছিয়ে থাকার কারণ খুঁজবেন
কারণ: সমস্যার মূলে পৌঁছে সহায়তা করাই শ্রেষ্ঠ।


৮। একজন শিক্ষকের আবশ্যক গুণ কী?
(A) ছাত্রকল্যাণে সার্থক ও সদর্থক পদক্ষেপ নেওয়া
(B) পরীক্ষায় সফল করতে সাহায্য করা
(C) পরিচ্ছন্নতা বজায় রেখে সম্মানজনক দূরত্ব রাখা
(D) পাঠ্যসূচি সময়মতো শেষ করা।

উত্তর: (A) ছাত্রকল্যাণে সার্থক ও সদর্থক পদক্ষেপ নেওয়া
কারণ: শিক্ষকের প্রধান দায়িত্ব ছাত্রকল্যাণ।


৯। ভাষাশিক্ষায় উপযোগী সহপাঠ্যক্রমিক কার্যাবলী কী?
(A) বক্তৃতা
(B) বিতর্ক
(C) অভিনয়
(D) এগুলির সবকটি।

উত্তর: (D) এগুলির সবকটি
কারণ: এগুলো ভাষা চর্চায় সহায়ক।


১০। ‘শিক্ষার লক্ষ্যই হল মানুষ তৈরি করা’ উক্তিটি কার?
(A) বিবেকানন্দ
(B) অরবিন্দ
(C) গান্ধিজি
(D) বঙ্কিমচন্দ্র।

উত্তর: (A) বিবেকানন্দ
কারণ: এই বক্তব্য স্বামী বিবেকানন্দের।


১১। ভাষা পঠন-পাঠনে সর্বাপেক্ষা কার্যকর দৃষ্টিভঙ্গী কী?
(A) সামাজিক
(B) মনোবৈজ্ঞানিক
(C) বিশ্লেষণী
(D) ব্যক্তিগত।

উত্তর: (B) মনোবৈজ্ঞানিক
কারণ: ভাষা শেখায় মনোবৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গী কার্যকর।


১২। ভাষা-শিক্ষার প্রাথমিক উপাদান কী?
(A) শব্দ
(B) বর্ণ
(C) ধ্বনি
(D) বাক্য।

উত্তর: (C) ধ্বনি
কারণ: ধ্বনি হল ভাষার মূল ভিত্তি।


১৩। ব্যাকরণ শিক্ষাদানের সমস্যা কী?
(A) আপাত সরলতা
(B) সূত্রাদির জটিলতা
(C) বাস্তব উপযোগিতার সীমাবদ্ধতা
(D) সচেতনতা ও সংবেদনশীলতার অভাব।

উত্তর: (B) সূত্রাদির জটিলতা
কারণ: ব্যাকরণের সূত্র ও নিয়ম জটিল হওয়ায় শিক্ষায় সমস্যা হয়।


১৪। শ্রেণিকক্ষে ভাষাবৈষম্য দূর করতে শিক্ষক কী করবেন?
(A) আলাদা পাঠ দেবেন
(B) নিজে আঞ্চলিক ভাষা শিখে শেখাবেন
(C) ভিন্ন আঞ্চলিক ছাত্র ভর্তি বন্ধ করবেন
(D) আঞ্চলিকতার সীমা অতিক্রম করে আদর্শ চলিত ভাষায় পাঠদান করবেন।

উত্তর: (D) আঞ্চলিকতার সীমা অতিক্রম করে আদর্শ চলিত ভাষায় পাঠদান করবেন
কারণ: ভাষাগত সমতা আনার জন্য আদর্শ চলিত ভাষা শেখানো উচিত।


১৫। ছাত্রের কোনো প্রশ্ন শিক্ষকের জানা না থাকলে কী করবেন?
(A) অন্য প্রশ্ন করতে বলবেন
(B) পরে দেখে উত্তর দেবেন
(C) প্রশ্ন এড়িয়ে যাবেন
(D) তিরস্কার করবেন।

উত্তর: (B) পরে দেখে উত্তর দেবেন
কারণ: জ্ঞান বৃদ্ধি ও শিক্ষার্থীর প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top