সংশোধনী শিখন (Remedial Teaching) হলো শিক্ষার্থীদের শিক্ষার ঘাটতি পূরণ করার জন্য একটি পরিকল্পিত শিক্ষাদান পদ্ধতি। এটি মূলত সেই শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োগ করা হয় যারা কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে বা দক্ষতায় পিছিয়ে রয়েছে। সংশোধনী শিখনের উদ্দেশ্য শিক্ষার্থীর দুর্বল দিকগুলোকে চিহ্নিত করে সেগুলোতে উন্নতি করা।
সংশোধনী শিখনের সংজ্ঞা:
সংশোধনী শিখন হলো এমন একটি শিক্ষণ প্রক্রিয়া যা শিক্ষার্থীদের শেখার প্রক্রিয়ার ঘাটতি দূর করার জন্য ডিজাইন করা হয়। এটি ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীভিত্তিক হতে পারে।
উদাহরণ:
- যারা গণিতের বুনিয়াদি বিষয়গুলো বুঝতে পারেনি, তাদের জন্য একটি বিশেষ ক্লাস আয়োজন।
- ইংরেজি ব্যাকরণে দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ব্যাকরণ চর্চা ক্লাস।
সংশোধনী শিখনের বৈশিষ্ট্য:
- লক্ষ্যভিত্তিক:
শিক্ষার্থীর নির্দিষ্ট দুর্বলতা চিহ্নিত করে তার উপর কার্যক্রম পরিচালনা করা। - সৃজনশীল পদ্ধতি:
শিক্ষার্থীদের আগ্রহ ধরে রাখার জন্য উদ্ভাবনী ও আকর্ষণীয় পদ্ধতির ব্যবহার। - ধারাবাহিক মূল্যায়ন:
সংশোধনী কার্যক্রমের সময় শিক্ষার্থীর অগ্রগতি নিয়মিত মূল্যায়ন করা হয়। - ব্যক্তিগত মনোযোগ:
প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য নির্দিষ্ট সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধান প্রদান। - প্রতিক্রিয়াশীল পরিবেশ:
শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর জন্য সহানুভূতিশীল এবং ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি।
সংশোধনী শিখনের উদ্দেশ্য:
- শিক্ষার্থীর শেখার ঘাটতি পূরণ করা।
- শিক্ষার্থীর আত্মবিশ্বাস এবং আগ্রহ বৃদ্ধি করা।
- শিক্ষার্থীদের সঠিক শিক্ষণ কৌশল শেখানো।
- পরীক্ষা বা মূল্যায়নের জন্য শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করা।
- ভবিষ্যতের জন্য শিক্ষার্থীদের একটি দৃঢ় ভিত্তি তৈরি করা।
সংশোধনী শিখনের ধাপসমূহ:
১. সমস্যা নির্ধারণ:
- শিক্ষার্থীর কোন বিষয়ে দুর্বলতা আছে তা চিহ্নিত করা।
- উদাহরণ: পরীক্ষার ফলাফল বা ক্লাসে অংশগ্রহণের মাধ্যমে সমস্যাগুলি নির্ধারণ করা।
২. কারণ বিশ্লেষণ:
- দুর্বলতার কারণ খুঁজে বের করা।
- উদাহরণ: শিক্ষার্থীর মনোযোগের অভাব, পাঠ্যবই বুঝতে না পারা, বা শিক্ষণ পদ্ধতির সমস্যা।
৩. পরিকল্পনা তৈরি:
- শিক্ষার্থীর জন্য একটি সংশোধনী পরিকল্পনা তৈরি করা।
- উদাহরণ: পড়াশোনার সময় নির্ধারণ, ব্যাখ্যামূলক নোট তৈরি।
৪. শিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা:
- সমস্যার ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করা।
- উদাহরণ: গণিতে দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন উদাহরণ দিয়ে ব্যাখ্যা করা।
৫. মূল্যায়ন ও প্রতিক্রিয়া:
- সংশোধনী কার্যক্রমের প্রভাব মূল্যায়ন করা।
- উদাহরণ: একটি ছোট পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থীর অগ্রগতি দেখা।
৬. পুনঃমূল্যায়ন:
- প্রয়োজন হলে আবার সংশোধনী কার্যক্রম চালানো।
সংশোধনী শিখনের উপায়:
- পুনরাবৃত্তি (Revision):
জটিল বিষয়গুলো বারবার পড়ানো। - ছোট ছোট দল গঠন (Group Work):
একই ধরনের সমস্যাযুক্ত শিক্ষার্থীদের একসঙ্গে পড়ানো। - ইউডিও ভিজ্যুয়াল পদ্ধতি (Audio-Visual Aids):
শিক্ষার্থীদের বোঝানোর জন্য অডিও বা ভিডিও উপকরণের ব্যবহার। - খেলাধুলাভিত্তিক পদ্ধতি (Game-Based Learning):
শেখানোর জন্য শিক্ষণমূলক খেলার ব্যবহার। - উপদেশ ও পরামর্শ (Counseling):
শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে প্রস্তুত করার জন্য উপদেশ দেওয়া।
সংশোধনী শিখনের গুরুত্ব:
- অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা:
প্রতিটি শিক্ষার্থীর শেখার সুযোগ নিশ্চিত করা। - মনোবল বৃদ্ধি:
পিছিয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস তৈরি করা। - দুর্বলতাকে শক্তিতে রূপান্তর:
শিক্ষার্থীদের দুর্বলতাকে একটি নতুন দক্ষতায় রূপান্তর করা। - শিক্ষণ পদ্ধতির উন্নতি:
শিক্ষককে শিক্ষাদানের পদ্ধতি পরিবর্তন করতে সহায়তা করে।
উদাহরণ:
- গণিত সংশোধনী:
- যারা বীজগণিতে দুর্বল তাদের জন্য প্রতিদিনের গণনা অনুশীলনের ব্যবস্থা।
- ইংরেজি সংশোধনী:
- শব্দার্থ এবং বাক্যগঠন নিয়ে কাজ করা।
- বিজ্ঞান সংশোধনী:
- কঠিন তত্ত্বগুলো সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করা।