wbp constable gk practice set : History | Politics | Geography

ইতিহাস (History)

Q. কোন আইনের মাধ্যমে ভারতে প্রথমবার গভর্নর জেনারেল অফ বেঙ্গলের পদটি তৈরি করা হয় এবং তাকে সাহায্য করার জন্য একটি কার্যনির্বাহী পরিষদ (Executive Council) গঠন করা হয়?

  • (A) পিটের ভারত আইন, ১৭৮৪
  • (B) নিয়ন্ত্রক আইন, ১৭৭৩
  • (C) চার্টার অ্যাক্ট, ১৮৩৩
  • (D) ভারত শাসন আইন, ১৮৫৮

সঠিক উত্তর: (B) নিয়ন্ত্রক আইন, ১৭৭৩

বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ১৭৭৩ সালের নিয়ন্ত্রক আইনের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো ব্রিটিশ সরকার ভারতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে। এই আইনের মাধ্যমেই বাংলার গভর্নরকে ‘গভর্নর-জেনারেল অফ বেঙ্গল’ পদে উন্নীত করা হয় এবং লর্ড ওয়ারেন হেস্টিংস প্রথম গভর্নর-জেনারেল হন।

Q. ‘মনসবদারি প্রথা’য় ‘জাট’ (Zat) এবং ‘সাওয়ার’ (Sawar) – এই দুটি পদের মধ্যে পার্থক্য কী ছিল?

  • (A) ‘জাট’ ছিল বেসামরিক পদ এবং ‘সাওয়ার’ ছিল সামরিক পদ।
  • (B) ‘জাট’ দ্বারা মনসবদারের ব্যক্তিগত মর্যাদা ও বেতন নির্ধারিত হত, আর ‘সাওয়ার’ দ্বারা তার অধীনে থাকা অশ্বারোহী সেনার সংখ্যা নির্ধারিত হত।
  • (C) ‘জাট’ দ্বারা অশ্বারোহী সেনার সংখ্যা এবং ‘সাওয়ার’ দ্বারা পদাতিক সেনার সংখ্যা বোঝানো হত।
  • (D) ‘জাট’ মনসবদারের বংশগত পদমর্যাদা এবং ‘সাওয়ার’ তার অর্জিত পদমর্যাদা নির্দেশ করত।

সঠিক উত্তর: (B) ‘জাট’ দ্বারা মনসবদারের ব্যক্তিগত মর্যাদা ও বেতন নির্ধারিত হত, আর ‘সাওয়ার’ দ্বারা তার অধীনে থাকা অশ্বারোহী সেনার সংখ্যা নির্ধারিত হত।

বিস্তারিত ব্যাখ্যা: আকবরের প্রবর্তিত মনসবদারি প্রথায় ‘জাট’ ছিল একজন মনসবদারের পদমর্যাদা (rank) এবং ব্যক্তিগত বেতনের সূচক। ‘সাওয়ার’ পদটি নির্দেশ করত যে ওই মনসবদারকে নির্দিষ্ট সংখ্যক অশ্বারোহী সৈন্য রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে।

Q. বেসিনের চুক্তি (Treaty of Bassein, 1802) কাদের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছিল এবং এর প্রধান ফলাফল কী ছিল?

  • (A) ব্রিটিশ ও টিপু সুলতান; এর ফলে চতুর্থ ইঙ্গ-মহীশূর যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে।
  • (B) ব্রিটিশ ও দ্বিতীয় বাজিরাও পেশোয়া; এর ফলে মারাঠা সাম্রাজ্যে ব্রিটিশদের প্রভাব চূড়ান্তভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
  • (C) ব্রিটিশ ও রঞ্জিত সিং; এর ফলে শতদ্রু নদী ব্রিটিশ ও শিখ সাম্রাজ্যের সীমানা হিসেবে চিহ্নিত হয়।
  • (D) ব্রিটিশ ও সিরাজ-উদ-দৌলা; এর ফলে পলাশীর যুদ্ধের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়।

সঠিক উত্তর: (B) ব্রিটিশ ও দ্বিতীয় বাজিরাও পেশোয়া; এর ফলে মারাঠা সাম্রাজ্যে ব্রিটিশদের প্রভাব চূড়ান্তভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়।

বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ১৮০২ সালে দ্বিতীয় বাজিরাও পেশোয়া হোলকারদের ভয়ে ব্রিটিশদের সঙ্গে বেসিনের চুক্তি স্বাক্ষর করেন। এই চুক্তির মাধ্যমে তিনি ব্রিটিশদের অধীনতামূলক মিত্রতা নীতি গ্রহণ করেন। এই চুক্তিটি মারাঠা সর্দারদের আত্মসম্মানে আঘাত করে এবং এর ফলস্বরূপ দ্বিতীয় ইঙ্গ-মারাঠা যুদ্ধ শুরু হয়।

Q. ‘সাধারণ ব্রাহ্মসমাজ’ গঠনের মূল কারণ কী ছিল?

  • (A) দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের রক্ষণশীল মনোভাব।
  • (B) রামমোহন রায়ের খ্রিস্টধর্মের প্রতি অতিরিক্ত আগ্রহ।
  • (C) কেশবচন্দ্র সেনের একনায়কতান্ত্রিক মনোভাব এবং তাঁর কন্যার নাবালিকা অবস্থায় কোচবিহারের রাজার সঙ্গে বিবাহ দেওয়া।
  • (D) শিবনাথ শাস্ত্রীর সামাজিক সংস্কারের বিরোধিতা।

সঠিক উত্তর: (C) কেশবচন্দ্র সেনের একনায়কতান্ত্রিক মনোভাব এবং তাঁর কন্যার নাবালিকা অবস্থায় কোচবিহারের রাজার সঙ্গে বিবাহ দেওয়া।

বিস্তারিত ব্যাখ্যা: কেশবচন্দ্র সেন নিজে নাবালিকা বিবাহের বিরোধিতা করলেও, নিজের ১৩ বছর বয়সী কন্যার সঙ্গে কোচবিহারের নাবালক রাজার বিবাহ দেন। এই ঘটনা এবং তার কর্তৃত্ববাদী মনোভাবের কারণে শিবনাথ শাস্ত্রী, আনন্দমোহন বসু প্রমুখ অনুগামীরা তাঁর সঙ্গ ত্যাগ করে ১৮৭৮ সালে ‘সাধারণ ব্রাহ্মসমাজ’ প্রতিষ্ঠা করেন।

Q. ইলবার্ট বিল বিতর্কের (Ilbert Bill Controversy, 1883) মূল বিষয়বস্তু কী ছিল?

  • (A) ভারতীয়দের জন্য উচ্চশিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি করা।
  • (B) ভারতীয় বিচারকদের ইউরোপীয় অভিযুক্তদের বিচার করার অধিকার প্রদান করা।
  • (C) ভারতীয়দের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় বসার বয়স কমানো।
  • (D) সংবাদপত্রের উপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা।

সঠিক উত্তর: (B) ভারতীয় বিচারকদের ইউরোপীয় অভিযুক্তদের বিচার করার অধিকার প্রদান করা।

বিস্তারিত ব্যাখ্যা: লর্ড রিপনের সময়কালে এই বিলটি আনা হয়েছিল। এর আগে পর্যন্ত, ভারতীয় বিচারকরা কোনো ইউরোপীয় নাগরিকের বিচার করতে পারতেন না। ইলবার্ট বিলের মাধ্যমে এই বৈষম্য দূর করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু ভারতে বসবাসকারী ইউরোপীয়রা তীব্র প্রতিবাদ জানায়, যার ফলে সরকার বিলটি সংশোধন করতে বাধ্য হয়।

Q. ফরাজি আন্দোলন (Faraizi Movement) মূলত কোন অঞ্চলে কেন্দ্রীভূত ছিল এবং এর মূল লক্ষ্য কী ছিল?

  • (A) পাঞ্জাব; শিখ ধর্মের সংস্কার।
  • (B) পূর্ব বাংলা; ইসলামকে তার মূল শুদ্ধ রূপে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং ব্রিটিশ ও জমিদারদের শোষণ থেকে কৃষকদের মুক্ত করা।
  • (C) দাক্ষিণাত্য; মারাঠা শক্তির পুনরুত্থান।
  • (D) উত্তরপ্রদেশ; সিপাহী বিদ্রোহের প্রস্তুতি।

সঠিক উত্তর: (B) পূর্ব বাংলা; ইসলামকে তার মূল শুদ্ধ রূপে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং ব্রিটিশ ও জমিদারদের শোষণ থেকে কৃষকদের মুক্ত করা।

বিস্তারিত ব্যাখ্যা: হাজী শরীয়তুল্লাহ দ্বারা ঊনবিংশ শতকের প্রথম দিকে পূর্ব বাংলায় ফরাজি আন্দোলন শুরু হয়। পরবর্তীতে তাঁর পুত্র দুদু মিঞার নেতৃত্বে এটি একটি কৃষক আন্দোলনে পরিণত হয়, যা মূলত অত্যাচারী জমিদার এবং নীলকর সাহেবদের বিরুদ্ধে পরিচালিত হয়েছিল।

Q. ‘ইক্তা ব্যবস্থা’র (Iqta System) অধীনে ‘মুক্তি’ বা ‘ওয়ালি’দের মূল দায়িত্ব কী ছিল?

  • (A) ইক্তা থেকে প্রাপ্ত রাজস্ব বংশানুক্রমে ভোগ করা।
  • (B) শুধুমাত্র সুলতানের জন্য সৈন্য সরবরাহ করা।
  • (C) ইক্তা থেকে রাজস্ব আদায় করা, আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং নিজের ও সৈন্যদের ভরণপোষণের পর উদ্বৃত্ত অর্থ কেন্দ্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া।
  • (D) ইক্তা অঞ্চলে ধর্মীয় কার্যকলাপ পরিচালনা করা।

সঠিক উত্তর: (C) ইক্তা থেকে রাজস্ব আদায় করা, আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং নিজের ও সৈন্যদের ভরণপোষণের পর উদ্বৃত্ত অর্থ কেন্দ্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া।

বিস্তারিত ব্যাখ্যা: সুলতানি আমলে, বিশেষ করে ইলতুৎমিশের সময় থেকে ইক্তা ব্যবস্থা সুপ্রতিষ্ঠিত হয়। ইক্তা ছিল একটি নির্দিষ্ট ভূমিখণ্ড যা সামরিক বা অসামরিক அதிகாரীদের বেতনের পরিবর্তে দেওয়া হত। ইক্তার অধিকারী ‘মুক্তি’ বা ‘ওয়ালি’ নামে পরিচিত ছিলেন। ইক্তা বংশানুক্রমিক ছিল না এবং মুক্তিদের বদলি করা যেত।

Q. লাহোর কংগ্রেস (১৯২৯) -এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব কী?

  • (A) এই অধিবেশনে মুসলিম লীগ এবং কংগ্রেসের মধ্যে লক্ষ্ণৌ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
  • (B) এই অধিবেশনে অসহযোগ আন্দোলনের প্রস্তাব গৃহীত হয়।
  • (C) এই অধিবেশনে ‘পূর্ণ স্বরাজ’ বা সম্পূর্ণ স্বাধীনতার প্রস্তাব গ্রহণ করা হয় এবং ২৬ জানুয়ারিকে স্বাধীনতা দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
  • (D) এই অধিবেশনে ভারত ছাড়ো আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়।

সঠিক উত্তর: (C) এই অধিবেশনে ‘পূর্ণ স্বরাজ’ বা সম্পূর্ণ স্বাধীনতার প্রস্তাব গ্রহণ করা হয় এবং ২৬ জানুয়ারিকে স্বাধীনতা দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বিস্তারিত ব্যাখ্যা: জওহরলাল নেহরুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ১৯২৯ সালের লাহোর কংগ্রেস অধিবেশনটি ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের একটি মাইলফলক। এই অধিবেশনে কংগ্রেস তার লক্ষ্য ‘ডোমিনিয়ন স্ট্যাটাস’ থেকে পরিবর্তন করে ‘পূর্ণ স্বরাজ’ (Complete Independence) ঘোষণা করে।

Q. বিজয়নগর সাম্রাজ্যের কোন শাসক ‘অন্ধ্র ভোজ’ নামে পরিচিত ছিলেন এবং তাঁর রাজসভায় ‘অষ্টদিগ্গজ’ নামে আটজন বিখ্যাত কবি ছিলেন?

  • (A) প্রথম দেবরায়
  • (B) দ্বিতীয় দেবরায়
  • (C) কৃষ্ণদেবরায়
  • (D) অচ্যুত দেবরায়

সঠিক উত্তর: (C) কৃষ্ণদেবরায়

বিস্তারিত ব্যাখ্যা: তুলুব বংশের শাসক কৃষ্ণদেবরায় (১৫০৯-১৫২৯) ছিলেন বিজয়নগর সাম্রাজ্যের সর্বশ্রেষ্ঠ সম্রাট। তেলুগু সাহিত্যে তাঁর বিশাল অবদানের জন্য তাঁকে ‘অন্ধ্র ভোজ’ বলা হত। তাঁর রাজসভা ‘অষ্টদিগ্গজ’ নামে পরিচিত আটজন সেরা তেলুগু কবি দ্বারা অলঙ্কৃত ছিল।

Q. ‘থিওসফিক্যাল সোসাইটি’র (Theosophical Society) প্রধান উদ্দেশ্য কী ছিল এবং ভারতে কে এটিকে জনপ্রিয় করে তোলেন?

  • (A) সতীদাহ প্রথা রদ করা; রাজা রামমোহন রায়।
  • (B) বর্ণপ্রথার বিরোধিতা করা; জ্যোতিবা ফুলে।
  • (C) বিশ্বজনীন ভ্রাতৃত্ববোধ গড়ে তোলা এবং প্রাচীন ধর্ম ও দর্শনের তুলনামূলক অধ্যয়ন করা; অ্যানি বেসান্ত।
  • (D) বিধবা বিবাহ আইনসম্মত করা; ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।

সঠিক উত্তর: (C) বিশ্বজনীন ভ্রাতৃত্ববোধ গড়ে তোলা এবং প্রাচীন ধর্ম ও দর্শনের তুলনামূলক অধ্যয়ন করা; অ্যানি বেসান্ত।

বিস্তারিত ব্যাখ্যা: থিওসফিক্যাল সোসাইটি ১৮৭৫ সালে নিউ ইয়র্কে মাদাম ব্লাভাটস্কি এবং কর্নেল অলকট দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ১৮৯৩ সালে অ্যানি বেসান্ত ভারতে আসার পর এই আন্দোলনটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। তিনি ভারতীয়দের মধ্যে তাদের প্রাচীন ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি নিয়ে গর্ববোধ জাগিয়ে তোলেন।

Q. পুনা চুক্তি (Poona Pact, 1932) কাদের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছিল এবং এর মূল বিষয় কী ছিল?

  • (A) গান্ধীজি ও জিন্নাহ; পৃথক মুসলিম রাষ্ট্রের দাবি নিয়ে।
  • (B) গান্ধীজি ও ড. বি. আর. আম্বেদকর; দলিতদের জন্য পৃথক নির্বাচকমণ্ডলীর পরিবর্তে আইনসভায় আসন সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা।
  • (C) নেহরু ও সর্দার প্যাটেল; ভারতের সংবিধানের রূপরেখা নিয়ে।
  • (D) সুভাষচন্দ্র বসু ও গান্ধীজি; কংগ্রেসের সভাপতির পদ নিয়ে।

সঠিক উত্তর: (B) গান্ধীজি ও ড. বি. আর. আম্বেদকর; দলিতদের জন্য পৃথক নির্বাচকমণ্ডলীর পরিবর্তে আইনসভায় আসন সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা।

বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী রামসে ম্যাকডোনাল্ডের সাম্প্রদায়িক বাঁটোয়ারার প্রতিবাদে গান্ধীজির অনশনের পর ড. আম্বেদকরের সাথে তাঁর এই চুক্তি হয়। এই চুক্তি অনুসারে, দলিতদের জন্য পৃথক নির্বাচকমণ্ডলীর দাবি প্রত্যাহার করা হয় এবং তার পরিবর্তে প্রাদেশিক আইনসভাগুলিতে সংরক্ষিত আসনের সংখ্যা ৭১ থেকে বাড়িয়ে ১৪৮ করা হয়।

Q. কোন গভর্নর-জেনারেল ‘স্বত্ববিলোপ নীতি’ (Doctrine of Lapse) প্রয়োগ করে সাঁতারা, ঝাঁসি, নাগপুর ইত্যাদি রাজ্য ব্রিটিশ সাম্রাজ্যভুক্ত করেন?

  • (A) লর্ড ওয়েলেসলি
  • (B) লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক
  • (C) লর্ড ডালহৌসি
  • (D) লর্ড ক্যানিং

সঠিক উত্তর: (C) লর্ড ডালহৌসি

বিস্তারিত ব্যাখ্যা: লর্ড ডালহৌসি (১৮৪৮-১৮৫৬) ভারতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য বিস্তারের জন্য স্বত্ববিলোপ নীতি ব্যাপকভাবে প্রয়োগ করেন। এই নীতি অনুসারে, কোনো দেশীয় রাজ্যের রাজার স্বাভাবিক উত্তরাধিকারী না থাকলে সেই রাজ্যটি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যেত।

Q. আলাউদ্দিন খলজির বাজারদর নিয়ন্ত্রণ নীতির (Market Control Policy) প্রধান উদ্দেশ্য কী ছিল?

  • (A) সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করা।
  • (B) ব্যবসায়ীদের মুনাফা কমানো।
  • (C) একটি বিশাল এবং স্থায়ী সেনাবাহিনী রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সৈন্যদের কম বেতনে জীবনধারণের সুযোগ করে দেওয়া।
  • (D) মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা।

সঠিক উত্তর: (C) একটি বিশাল এবং স্থায়ী সেনাবাহিনী রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সৈন্যদের কম বেতনে জীবনধারণের সুযোগ করে দেওয়া।

বিস্তারিত ব্যাখ্যা: আলাউদ্দিন খলজি মোঙ্গল আক্রমণ প্রতিহত করতে একটি বিশাল স্থায়ী সেনাবাহিনী গঠন করেছিলেন। এই বিশাল বাহিনীকে কম বেতনে সন্তুষ্ট রাখার জন্য তিনি নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করেন।

Q. ‘দীন-ই-ইলাহি’ কী ছিল?

  • (A) আকবর কর্তৃক প্রবর্তিত একটি নতুন ক্যালেন্ডার।
  • (B) একটি নতুন ভূমিরাজস্ব ব্যবস্থা।
  • (C) আকবর কর্তৃক প্রবর্তিত একটি ধর্মীয় মতাদর্শ যা বিভিন্ন ধর্মের સારাংশ নিয়ে গঠিত।
  • (D) একটি নতুন সামরিক কৌশল।

সঠিক উত্তর: (C) আকবর কর্তৃক প্রবর্তিত একটি ধর্মীয় মতাদর্শ যা বিভিন্ন ধর্মের સારাংশ নিয়ে গঠিত।

বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ‘দীন-ই-ইলাহি’ বা ‘তৌহিদ-ই-ইলাহি’ ছিল সম্রাট আকবর কর্তৃক ১৫৮২ সালে প্রবর্তিত একটি সমন্বয়বাদী দর্শন। এটি কোনো নতুন ধর্ম ছিল না, বরং একটি আদর্শ যা ইসলাম, হিন্দুধর্ম, খ্রিস্টধর্ম ইত্যাদি ধর্মের ভালো দিকগুলিকে একত্রিত করার চেষ্টা করেছিল।

Q. গদর পার্টির (Ghadar Party) প্রতিষ্ঠা কোথায় হয়েছিল এবং এর প্রধান লক্ষ্য কী ছিল?

  • (A) লন্ডন, ইংল্যান্ড; ভারতে সাংবিধানিক সংস্কারের জন্য আবেদন করা।
  • (B) বার্লিন, জার্মানি; প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মানির সাহায্যে ভারতে বিপ্লব ঘটানো।
  • (C) সান ফ্রান্সিসকো, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র; সশস্ত্র বিপ্লবের মাধ্যমে ভারতে ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটানো।
  • (D) টোকিও, জাপান; জাপানের সহায়তায় ব্রিটিশদের ভারত থেকে বিতাড়িত করা।

সঠিক উত্তর: (C) সান ফ্রান্সিসকো, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র; সশস্ত্র বিপ্লবের মাধ্যমে ভারতে ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটানো।

বিস্তারিত ব্যাখ্যা: গদর পার্টি ১৯১৩ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোতে প্রবাসী ভারতীয়দের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন লালা হরদয়াল, সোহন সিং ভাকনা প্রমুখ। ‘গদর’ শব্দের অর্থ বিদ্রোহ। এই দলের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে ব্রিটিশ শাসন থেকে ভারতকে মুক্ত করা।

Q. ‘রায়তওয়ারি ব্যবস্থা’ (Ryotwari System) কে এবং কোথায় প্রথম প্রবর্তন করেন?

  • (A) লর্ড কর্নওয়ালিস, বাংলা ও বিহারে
  • (B) ওয়ারেন হেস্টিংস, উড়িষ্যায়
  • (C) টমাস মুনরো এবং আলেকজান্ডার রীড, মাদ্রাজ ও বোম্বাই প্রেসিডেন্সিতে
  • (D) লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক, পাঞ্জাবে

সঠিক উত্তর: (C) টমাস মুনরো এবং আলেকজান্ডার রীড, মাদ্রাজ ও বোম্বাই প্রেসিডেন্সিতে

বিস্তারিত ব্যাখ্যা: রায়তওয়ারি ব্যবস্থায় সরকার সরাসরি ‘রায়ত’ বা কৃষকের সঙ্গে ভূমিরাজস্বের চুক্তি করত। এখানে চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের মতো কোনো জমিদার মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ছিল না। এই ব্যবস্থাটি প্রথম পরীক্ষামূলকভাবে আলেকজান্ডার রীড ১৭৯২ সালে মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সির বারামহল জেলায় চালু করেন। পরবর্তীতে টমাস মুনরো এটিকে মাদ্রাজ ও বোম্বাই প্রেসিডেন্সির বৃহৎ অংশে প্রসারিত করেন।

Q. সাঁওতাল বিদ্রোহ (১৮৫৫-৫৬) -এর প্রধান কারণগুলির মধ্যে কোনটি ছিল না?

  • (A) বহিরাগত ‘দিকু’ (মহাজন ও ব্যবসায়ী) দ্বারা অর্থনৈতিক শোষণ।
  • (B) ব্রিটিশ সরকারের নতুন ভূমিরাজস্ব নীতি এবং বন আইন।
  • (C) ব্রিটিশ প্রশাসনের দুর্নীতি এবং সাঁওতালদের প্রতি অবিচার।
  • (D) খ্রিস্টান মিশনারিদের দ্বারা ধর্মান্তরিত করার প্রচেষ্টা।

সঠিক উত্তর: (D) খ্রিস্টান মিশনারিদের দ্বারা ধর্মান্তরিত করার প্রচেষ্টা।

বিস্তারিত ব্যাখ্যা: সিধু ও কানহুর নেতৃত্বে সাঁওতাল বিদ্রোহের মূল কারণ ছিল অর্থনৈতিক শোষণ ও ব্রিটিশ প্রশাসনিক অবিচার। মহাজনদের চড়া সুদ, ব্যবসায়ীদের প্রতারণা এবং ব্রিটিশদের নতুন আইনকানুন সাঁওতালদের জীবন দুর্বিষহ করে তুলেছিল। যদিও মিশনারিদের কার্যকলাপ ছিল, কিন্তু তা এই বিদ্রোহের প্রধান বা প্রত্যক্ষ কারণ ছিল না। মূল ক্ষোভ ছিল ‘দিকু’ (বহিরাগত) এবং ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে।

Q. ভারত শাসন আইন, ১৯১৯ (Montagu-Chelmsford Reforms) এর প্রধান বৈশিষ্ট্য কী ছিল?

  • (A) প্রদেশে স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠা।
  • (B) কেন্দ্রে দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা প্রতিষ্ঠা এবং প্রদেশে দ্বৈত শাসন (Dyarchy) ব্যবস্থা প্রবর্তন।
  • (C) মুসলিমদের জন্য পৃথক নির্বাচকমণ্ডলীর অবসান।
  • (D) একটি ফেডারেল কোর্ট স্থাপন।

সঠিক উত্তর: (B) কেন্দ্রে দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা প্রতিষ্ঠা এবং প্রদেশে দ্বৈত শাসন (Dyarchy) ব্যবস্থা প্রবর্তন।

বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ১৯১৯ সালের আইনে প্রথমবারের মতো কেন্দ্রে দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা (Council of State এবং Legislative Assembly) গঠিত হয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ছিল প্রদেশগুলিতে ‘দ্বৈত শাসন’ বা Dyarchy প্রবর্তন। এর মাধ্যমে প্রাদেশিক বিষয়গুলিকে ‘সংরক্ষিত’ (Reserved) এবং ‘হস্তান্তরিত’ (Transferred) – এই দুই ভাগে ভাগ করা হয়। সংরক্ষিত বিষয়গুলি গভর্নরের নিয়ন্ত্রণে এবং হস্তান্তরিত বিষয়গুলি ভারতীয় মন্ত্রীদের নিয়ন্ত্রণে ছিল।

Q. কে ‘পভার্টি অ্যান্ড আন-ব্রিটিশ রুল ইন ইন্ডিয়া’ (Poverty and Un-British Rule in India) গ্রন্থটি রচনা করেন এবং এতে কোন তত্ত্বটি তুলে ধরেন?

  • (A) রমেশচন্দ্র দত্ত; অর্থনৈতিক জাতীয়তাবাদের তত্ত্ব।
  • (B) দাদাভাই নওরোজি; সম্পদ নির্গমন তত্ত্ব (Drain of Wealth Theory)।
  • (C) মহাদেব গোবিন্দ রানাডে; শিল্পায়ন তত্ত্ব।
  • (D) গোপাল কৃষ্ণ গোখলে; রাজনৈতিক সংস্কার তত্ত্ব।

সঠিক উত্তর: (B) দাদাভাই নওরোজি; সম্পদ নির্গমন তত্ত্ব (Drain of Wealth Theory)।

বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ‘ভারতের মহান বৃদ্ধ’ (Grand Old Man of India) নামে পরিচিত দাদাভাই নওরোজি তাঁর এই বিখ্যাত গ্রন্থে দেখান যে, কীভাবে ব্রিটিশ শাসন ভারতের সম্পদকে ইংল্যান্ডে পাচার করছে, যার বিনিময়ে ভারত কোনো অর্থনৈতিক সুবিধা পাচ্ছে না। বেতন, পেনশন, হোম চার্জেস, কাঁচামাল রপ্তানি ইত্যাদির মাধ্যমে এই সম্পদ নির্গমন ভারতের দারিদ্র্যের মূল কারণ বলে তিনি যুক্তি দেন।

Q. চৌরিচৌরার ঘটনার পর মহাত্মা গান্ধী কোন আন্দোলনটি স্থগিত করে দেন?

  • (A) খিলাফত আন্দোলন
  • (B) আইন অমান্য আন্দোলন
  • (C) ভারত ছাড়ো আন্দোলন
  • (D) অসহযোগ আন্দোলন

সঠিক উত্তর: (D) অসহযোগ আন্দোলন

বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ১৯২২ সালের ৪ঠা ফেব্রুয়ারি উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুর জেলার চৌরিচৌরা নামক স্থানে উত্তেজিত জনতা একটি পুলিশ স্টেশনে আগুন লাগিয়ে দেয়, যার ফলে ২২ জন পুলিশ কর্মচারী নিহত হন। এই হিংসাত্মক ঘটনায় ব্যথিত হয়ে গান্ধীজি, যিনি অহিংসার উপর ভিত্তি করে আন্দোলন পরিচালনা করছিলেন, ১৯২২ সালের ১২ই ফেব্রুয়ারি অসহযোগ আন্দোলন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেন।

রাষ্ট্রবিজ্ঞান (Politics)

Q. ভারতীয় সংবিধানের কোন ধারায় বলা হয়েছে যে, রাষ্ট্র একটি ‘Uniform Civil Code’ বা অভিন্ন দেওয়ানি বিধি প্রণয়নের চেষ্টা করবে?

  • (A) ধারা ৪0
  • (B) ধারা ৪৪
  • (C) ধারা ৪৮
  • (D) ধারা ৫১

সঠিক উত্তর: (B) ধারা ৪৪

বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ভারতীয় সংবিধানের চতুর্থ অংশে (Part IV) রাষ্ট্র পরিচালনার নির্দেশমূলক নীতি (Directive Principles of State Policy) বর্ণিত আছে। এর ৪৪ নং ধারায় বলা হয়েছে, “The State shall endeavour to secure for the citizens a uniform civil code throughout the territory of India.”

Q. সংসদের একটি ‘স্থગন প্রস্তাব’ (Adjournment Motion) আনার মূল উদ্দেশ্য কী?

  • (A) কোনো মন্ত্রীর বিরুদ্ধে নিন্দা জ্ঞাপন করা।
  • (B) বাজেট আলোচনা সংক্ষিপ্ত করা।
  • (C) জনগুরুত্বপূর্ণ কোনো জরুরি বিষয়ে আলোচনা করার জন্য সংসদের স্বাভাবিক কাজকর্ম স্থগিত রাখা।
  • (D) কোনো বিলকে সিলেক্ট কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব দেওয়া।

সঠিক উত্তর: (C) জনগুরুত্বপূর্ণ কোনো জরুরি বিষয়ে আলোচনা করার জন্য সংসদের স্বাভাবিক কাজকর্ম স্থগিত রাখা।

বিস্তারিত ব্যাখ্যা: Adjournment Motion একটি ব্যতিক্রমী পদ্ধতি যা শুধুমাত্র লোকসভায় আনা যায়। এর জন্য কমপক্ষে ৫০ জন সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন। এটি অত্যন্ত জরুরি এবং জনগুরুত্বপূর্ণ কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য আনা হয়।

Q. ভারতীয় সংবিধানের ৭২ নং ধারা অনুসারে, রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদর্শনের ক্ষমতার (Pardoning Power) মধ্যে কোনটি অন্তর্ভুক্ত নয়?

  • (A) Pardon (ক্ষমা)
  • (B) Commutation (দণ্ড হ্রাস)
  • (C) Remission (দণ্ডের প্রকৃতি পরিবর্তন না করে মেয়াদ কমানো)
  • (D) Amendment (সংশোধন)

সঠিক উত্তর: (D) Amendment (সংশোধন)

বিস্তারিত ব্যাখ্যা: সংবিধানের ৭২ নং ধারা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পাঁচটি উপায়ে তাঁর ক্ষমা প্রদর্শনের ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন: Pardon, Commutation, Remission, Respite এবং Reprieve। ‘Amendment’ বা সংশোধন এই ক্ষমতার অংশ নয়।

Q. কেশবানন্দ ভারতী মামলা (১৯৭৩) -এর ঐতিহাসিক রায়টি কেন গুরুত্বপূর্ণ?

  • (A) এই রায়ে প্রস্তাবনাকে (Preamble) সংবিধানের অংশ হিসেবে স্বীকার করা হয় না।
  • (B) এই রায়ে সুপ্রিম কোর্ট ‘মৌলিক কাঠামো’র (Basic Structure) ধারণা দেয়, যা সংসদ সংশোধন করতে পারে না।
  • (C) এই রায়ে মৌলিক অধিকারকে নির্দেশমূলক নীতির উপরে স্থান দেওয়া হয়।
  • (D) এই রায়ে সম্পত্তির অধিকারকে মৌলিক অধিকার থেকে বাদ দেওয়া হয়।

সঠিক উত্তর: (B) এই রায়ে সুপ্রিম কোর্ট ‘মৌলিক কাঠামো’র (Basic Structure) ধারণা দেয়, যা সংসদ সংশোধন করতে পারে না।

বিস্তারিত ব্যাখ্যা: কেশবানন্দ ভারতী বনাম কেরালা রাজ্য মামলা (১৯৭৩) ভারতের সাংবিধানিক ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী রায়। এই মামলায় সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয় যে, সংসদ সংবিধানের ৩৬৮ নং ধারা অনুযায়ী সংবিধানের যেকোনো অংশ সংশোধন করতে পারলেও, সংবিধানের ‘মৌলিক কাঠামো’ (Basic Structure) পরিবর্তন বা ধ্বংস করতে পারবে না।

Q. কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক পর্যালোচনার জন্য গঠিত ‘সরকারিয়া কমিশন’ (Sarkaria Commission) নিম্নলিখিত কোন সুপারিশটি করেনি?

  • (A) ৩৫৬ নং ধারার (রাষ্ট্রপতি শাসন) প্রয়োগ শুধুমাত্র শেষ উপায় হিসেবে করা উচিত।
  • (B) রাজ্যপালের পদটি বিলুপ্ত করা উচিত।
  • (C) একটি স্থায়ী আন্তঃরাজ্য পরিষদ (Inter-State Council) গঠন করা উচিত।
  • (D) নিগমিত কর (Corporation Tax) থেকে প্রাপ্ত আয় রাজ্যগুলির সাথে ভাগ করে নেওয়া উচিত।

সঠিক উত্তর: (B) রাজ্যপালের পদটি বিলুপ্ত করা উচিত।

বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ১৯৮৩ সালে গঠিত সরকারিয়া কমিশন কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্কের উপর বিস্তারিত সুপারিশ করেছিল। কমিশন রাজ্যপালের পদ বিলুপ্ত করার সুপারিশ করেনি, বরং রাজ্যপাল নিয়োগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর সাথে আলোচনার পরামর্শ দিয়েছিল।

Q. Public Accounts Committee (PAC) বা সরকারি গাণনিক কমিটির বিষয়ে কোনটি সঠিক নয়?

  • (A) এই কমিটিতে মোট ২২ জন সদস্য থাকেন (১৫ জন লোকসভা থেকে এবং ৭ জন রাজ্যসভা থেকে)।
  • (B) কোনো মন্ত্রী এই কমিটির সদস্য হতে পারেন না।
  • (C) এই কমিটির চেয়ারম্যানকে লোকসভার স্পিকার নিযুক্ত করেন এবং তিনি সাধারণত শাসক দলের সদস্য হন।
  • (D) এর প্রধান কাজ হল ক্যাগ (CAG) এর রিপোর্ট পরীক্ষা করা।

সঠিক উত্তর: (C) এই কমিটির চেয়ারম্যানকে লোকসভার স্পিকার নিযুক্ত করেন এবং তিনি সাধারণত শাসক দলের সদস্য হন।

বিস্তারিত ব্যাখ্যা: Public Accounts Committee (PAC)-র চেয়ারম্যানকে লোকসভার স্পিকার নিযুক্ত করেন, কিন্তু ১৯৬৭ সাল থেকে একটি প্রথা অনুযায়ী, এই কমিটির চেয়ারম্যান বিরোধী দল থেকে নির্বাচিত হন। বাকি তথ্যগুলি সঠিক।

Q. সংবিধানের কোন তফসিল (Schedule) দলত্যাগ বিরোধী আইন (Anti-Defection Law) সম্পর্কিত?

  • (A) অষ্টম তফসিল
  • (B) নবম তফসিল
  • (C) দশম তফসিল
  • (D) একাদশ তফসিল

সঠিক উত্তর: (C) দশম তফসিল

বিস্তারিত ব্যাখ্যা: দশম তফসিলটি ১৯৮৫ সালে ৫২তম সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে যুক্ত করা হয়। এটি দলত্যাগের কারণে সংসদ ও রাজ্য বিধানসভার সদস্যদের পদ খারিজ সংক্রান্ত বিধি নিয়ে আলোচনা করে।

Q. Judicial Review বা বিচারবিভাগীয় পর্যালোচনার ক্ষমতা ভারতীয় সংবিধানে কোন দেশের সংবিধান থেকে অনুপ্রাণিত?

  • (A) যুক্তরাজ্য (United Kingdom)
  • (B) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (USA)
  • (C) কানাডা (Canada)
  • (D) আয়ারল্যান্ড (Ireland)

সঠিক উত্তর: (B) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (USA)

বিস্তারিত ব্যাখ্যা: বিচারবিভাগীয় পর্যালোচনা (Judicial Review) হল আদালতের সেই ক্ষমতা যার মাধ্যমে আদালত আইনসভা কর্তৃক প্রণীত আইন এবং নির্বাহী বিভাগের আদেশ পরীক্ষা করতে পারে এবং যদি তা সংবিধানের বিধান লঙ্ঘন করে তবে তাকে অসাংবিধানিক ও বাতিল ঘোষণা করতে পারে। এই ধারণাটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান থেকে গ্রহণ করা হয়েছে।

Q. একটি ‘অর্থ বিল’ (Money Bill) এবং একটি ‘আর্থিক বিল’ (Financial Bill – Category I) এর মধ্যে মূল পার্থক্য কী?

  • (A) সব অর্থ বিলই আর্থিক বিল, কিন্তু সব আর্থিক বিল অর্থ বিল নয়।
  • (B) অর্থ বিল শুধুমাত্র লোকসভায় পেশ করা যায়, কিন্তু আর্থিক বিল উভয় কক্ষে পেশ করা যায়।
  • (C) অর্থ বিলের জন্য রাষ্ট্রপতির সুপারিশ প্রয়োজন হয় না, কিন্তু আর্থিক বিলের জন্য হয়।
  • (D) রাজ্যসভা অর্থ বিল সংশোধন করতে পারে, কিন্তু আর্থিক বিল পারে না।

সঠিক উত্তর: (A) সব অর্থ বিলই আর্থিক বিল, কিন্তু সব আর্থিক বিল অর্থ বিল নয়।

বিস্তারিত ব্যাখ্যা: অর্থ বিল (Article 110) হল আর্থিক বিলের একটি উপবিভাগ। অর্থ বিলের বিষয়বস্তু ছাড়াও যদি কোনো বিলে সাধারণ আইনের বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকে, তবে তা আর্থিক বিল (Article 117) হয়, অর্থ বিল নয়। তাই সব অর্থ বিলই আর্থিক বিল, কিন্তু সব আর্থিক বিল অর্থ বিল নয়।

Q. সংবিধানের প্রস্তাবনায় (Preamble) ‘সমাজতান্ত্রিক’ (Socialist) এবং ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ (Secular) শব্দ দুটি কোন সংশোধনীর মাধ্যমে যুক্ত করা হয়েছিল?

  • (A) ২৪তম সংশোধনী, ১৯৭১
  • (B) ৪২তম সংশোধনী, ১৯৭৬
  • (C) ৪৪তম সংশোধনী, ১৯৭৮
  • (D) ৬১তম সংশোধনী, ১৯৮৯

সঠিক উত্তর: (B) ৪২তম সংশোধনী, ১৯৭৬

বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ১৯৭৬ সালের ৪২তম সংবিধান সংশোধনীকে ‘মিনি-সংবিধান’ও বলা হয়। এই সংশোধনীর মাধ্যমেই প্রস্তাবনায় ‘সমাজতান্ত্রিক’ ও ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ শব্দদুটি এবং ‘জাতির ঐক্য ও সংহতি’ (unity and integrity of the Nation) শব্দগুচ্ছ যুক্ত করা হয়।

Q. ‘জিরো আওয়ার’ (Zero Hour) সম্পর্কিত কোন বক্তব্যটি সঠিক?

  • (A) এটি সংবিধানের একটি আনুষ্ঠানিক অঙ্গ।
  • (B) এটি সংসদের কার্যপ্রণালী বিধিতে (Rules of Procedure) সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে।
  • (C) এটি একটি ভারতীয় সংসদীয় উদ্ভাবন যা প্রশ্নকাল শেষ হওয়ার ঠিক পরেই শুরু হয়।
  • (D) এই সময়ে শুধুমাত্র পূর্ব-অনুমোদিত বিষয় আলোচনা করা যায়।

সঠিক উত্তর: (C) এটি একটি ভারতীয় সংসদীয় উদ্ভাবন যা প্রশ্নকাল শেষ হওয়ার ঠিক পরেই শুরু হয়।

বিস্তারিত ব্যাখ্যা: জিরো আওয়ার ভারতীয় সংসদের একটি अनौपचारिक কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ প্রথা, যা ১৯৬২ সাল থেকে প্রচলিত। এটি সংসদের কার্যপ্রণালী বিধিতে উল্লেখ নেই। প্রশ্নকাল (Question Hour) শেষ হওয়ার পর এবং সভার মূল আলোচ্যসূচি শুরু হওয়ার আগে এই সময়টি আসে। এই সময়ে সদস্যরা কোনো পূর্ব নোটিশ ছাড়াই অত্যন্ত জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয় উত্থাপন করতে পারেন।

Q. সংসদের যৌথ অধিবেশন (Joint Sitting of Parliament) কে আহ্বান করেন এবং কে সভাপতিত্ব করেন?

  • (A) আহ্বান করেন প্রধানমন্ত্রী, সভাপতিত্ব করেন লোকসভার স্পিকার।
  • (B) আহ্বান করেন রাষ্ট্রপতি, সভাপতিত্ব করেন উপ-রাষ্ট্রপতি।
  • (C) আহ্বান করেন রাষ্ট্রপতি, সভাপতিত্ব করেন লোকসভার স্পিকার।
  • (D) আহ্বান করেন লোকসভার স্পিকার, সভাপতিত্ব করেন রাষ্ট্রপতি।

সঠিক উত্তর: (C) আহ্বান করেন রাষ্ট্রপতি, সভাপতিত্ব করেন লোকসভার স্পিকার।

বিস্তারিত ব্যাখ্যা: সংবিধানের ১০৮ নং ধারা অনুযায়ী, কোনো সাধারণ বিল নিয়ে লোকসভা ও রাজ্যসভার মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিলে, রাষ্ট্রপতি উভয় কক্ষের যৌথ অধিবেশন আহ্বান করতে পারেন। এই যৌথ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন লোকসভার স্পিকার। স্পিকারের অনুপস্থিতিতে লোকসভার ডেপুটি স্পিকার এবং তাঁরও অনুপস্থিতিতে রাজ্যসভার ডেপুটি চেয়ারম্যান সভাপতিত্ব করেন। রাজ্যসভার চেয়ারম্যান (উপ-রাষ্ট্রপতি) কখনোই যৌথ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন না।

Q. পঞ্চায়েতি রাজ ব্যবস্থার জন্য গঠিত অশোক মেহতা কমিটি (১৯৭৭) কী সুপারিশ করেছিল?

  • (A) ত্রি-স্তরীয় পঞ্চায়েত ব্যবস্থা।
  • (B) দ্বি-স্তরীয় পঞ্চায়েত ব্যবস্থা (মণ্ডল পঞ্চায়েত ও জেলা পরিষদ)।
  • (C) গ্রাম পঞ্চায়েতকে আরও ক্ষমতা প্রদান।
  • (D) পঞ্চায়েত নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলির অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা।

সঠিক উত্তর: (B) দ্বি-স্তরীয় পঞ্চায়েত ব্যবস্থা (মণ্ডল পঞ্চায়েত ও জেলা পরিষদ)।

বিস্তারিত ব্যাখ্যা: জনতা সরকারের আমলে গঠিত অশোক মেহতা কমিটি পঞ্চায়েতি রাজ ব্যবস্থার পুনরুজ্জীবনের জন্য ১৩২টি সুপারিশ করে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল বলবন্তরাই মেহতা কমিটির প্রস্তাবিত ত্রি-স্তরীয় ব্যবস্থার পরিবর্তে একটি দ্বি-স্তরীয় ব্যবস্থা চালু করা। তারা গ্রাম পঞ্চায়েতের স্তরের বিলুপ্তি ঘটিয়ে জেলা পরিষদ (শীর্ষে) এবং তার নীচে কয়েকটি গ্রাম নিয়ে গঠিত মণ্ডল পঞ্চায়েত (Mandal Panchayat) গঠনের সুপারিশ করে।

Q. ভারতীয় সংবিধানের ২১-ক ধারায় (Article 21A) শিক্ষার অধিকারকে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয় কোন সংশোধনীর মাধ্যমে?

  • (A) ৪২তম সংশোধনী, ১৯৭৬
  • (B) ৪৪তম সংশোধনী, ১৯৭৮
  • (C) ৮৬তম সংশোধনী, ২০০২
  • (D) ৯১তম সংশোধনী, ২০০৩

সঠিক উত্তর: (C) ৮৬তম সংশোধনী, ২০০২

বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ৮৬তম সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে ভারতীয় সংবিধানে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়। এটি ২১-ক ধারা যুক্ত করে ৬ থেকে ১৪ বছর বয়সী সমস্ত শিশুর জন্য বিনামূল্যে বাধ্যতামূলক শিক্ষাকে একটি মৌলিক অধিকারে পরিণত করে। এছাড়াও এটি ৪৫ নং ধারার (নির্দেশমূলক নীতি) বিষয়বস্তু পরিবর্তন করে এবং ৫১-ক ধারায় একটি নতুন মৌলিক কর্তব্য (পিতা-মাতা বা অভিভাবকের কর্তব্য) যুক্ত করে।

Q. ভারতের নিয়ামক ও মহাগাণনিক (Comptroller and Auditor General – CAG) কার কাছে তাঁর নিরীক্ষা রিপোর্ট পেশ করেন?

  • (A) প্রধানমন্ত্রী
  • (B) অর্থমন্ত্রী
  • (C) সংসদ
  • (D) রাষ্ট্রপতি

সঠিক উত্তর: (D) রাষ্ট্রপতি

বিস্তারিত ব্যাখ্যা: সংবিধানের ১৫১ নং ধারা অনুযায়ী, CAG কেন্দ্রের হিসাব সম্পর্কিত তাঁর নিরীক্ষা (audit) রিপোর্ট রাষ্ট্রপতির কাছে জমা দেন, যিনি সেই রিপোর্ট সংসদের উভয় কক্ষে পেশ করান। একইভাবে, রাজ্যের হিসাব সম্পর্কিত রিপোর্ট তিনি সংশ্লিষ্ট রাজ্যের রাজ্যপালের কাছে জমা দেন, যিনি তা রাজ্য বিধানসভায় পেশ করান। এরপর সংসদের Public Accounts Committee (PAC) এই রিপোর্ট পরীক্ষা করে।

ভূগোল (Geography)

Q. ‘কোপেন জলবায়ু শ্রেণিবিভাগ’ (Köppen climate classification) অনুসারে, ভারতের করমণ্ডল উপকূলে কোন ধরনের জলবায়ু দেখা যায়?

  • (A) Am (Tropical monsoon climate)
  • (B) Aw (Tropical savanna climate)
  • (C) As (Tropical climate with dry summer)
  • (D) Cwg (Monsoon-influenced humid subtropical climate)

সঠিক উত্তর: (C) As (Tropical climate with dry summer)

বিস্তারিত ব্যাখ্যা: করমণ্ডল উপকূল (তামিলনাড়ু উপকূল) ভারতের একটি ব্যতিক্রমী অঞ্চল যেখানে গ্রীষ্মকাল তুলনামূলকভাবে শুষ্ক থাকে এবং প্রধান বৃষ্টিপাত হয় শীতকালে (অক্টোবর-ডিসেম্বর), উত্তর-পূর্ব মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে। কোপেনের শ্রেণিবিভাগ অনুসারে, ‘As’ এই ধরনের জলবায়ুকে নির্দেশ করে।

Q. পৃথিবীর ভূ-অভ্যন্তরে ‘গুটেনবার্গ বিযুক্তি’ (Gutenberg Discontinuity) কোন দুটি স্তরকে পৃথক করেছে?

  • (A) শিলামণ্ডল (Crust) এবং গুরুমণ্ডল (Mantle)
  • (B) গুরুমণ্ডল (Mantle) এবং কেন্দ্রমণ্ডল (Core)
  • (C) ঊর্ধ্ব গুরুমণ্ডল এবং নিম্ন গুরুমণ্ডল
  • (D) বহিঃকেন্দ্রমণ্ডল এবং অন্তঃকেন্দ্রমণ্ডল

সঠিক উত্তর: (B) গুরুমণ্ডল (Mantle) এবং কেন্দ্রমণ্ডল (Core)

বিস্তারিত ব্যাখ্যা: গুটেনবার্গ বিযুক্তি রেখাটি প্রায় ২৯০০ কিলোমিটার গভীরে অবস্থিত এবং এটি গুরুমণ্ডলের নিম্ন অংশকে তরল বহিঃকেন্দ্রমণ্ডল থেকে পৃথক করেছে। অন্যদিকে, মোহোরোভিসিক বিযুক্তি শিলামণ্ডল ও গুরুমণ্ডলকে এবং লেহম্যান বিযুক্তি বহিঃ ও অন্তঃকেন্দ্রমণ্ডলকে পৃথক করে।

Q. ‘এল নিনো’ (El Niño) ঘটনাটি ঘটলে ভারতীয় মৌসুমী বায়ুর উপর সাধারণত কী প্রভাব পড়ে?

  • (A) মৌসুমী বায়ু শক্তিশালী হয় এবং ভারতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়।
  • (B) মৌসুমী বায়ু দুর্বল হয়ে পড়ে এবং ভারতে খরার পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।
  • (C) ভারতীয় মৌসুমী বায়ুর উপর কোনো প্রভাব পড়ে না।
  • (D) ভারতে শীতকালীন বৃষ্টিপাত বৃদ্ধি পায়।

সঠিক উত্তর: (B) মৌসুমী বায়ু দুর্বল হয়ে পড়ে এবং ভারতে খরার পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।

বিস্তারিত ব্যাখ্যা: এল নিনো হল পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের পেরু উপকূল বরাবর সমুদ্রপৃষ্ঠের জলের অস্বাভাবিক উষ্ণতা বৃদ্ধি। এই ঘটনার ফলে ওয়াকার সার্কুলেশন (Walker Circulation) দুর্বল হয়ে পড়ে, যা ভারতীয় মৌসুমী বায়ুকে দুর্বল করে দেয় এবং ভারতে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমিয়ে দেয়।

Q. নদীর ক্ষয়চক্রের (Cycle of Erosion) কোন পর্যায়ে ‘ইনসাইজড মিয়েন্ডার’ (Incised Meander) গঠিত হয়?

  • (A) যৌবন পর্যায়ে (Youthful stage)
  • (B) পরিণত পর্যায়ে (Mature stage)
  • (C) বার্ধক্য পর্যায়ে (Old stage)
  • (D) পুনর্যৌবন লাভের ফলে (Rejuvenation)

সঠিক উত্তর: (D) পুনর্যৌবন লাভের ফলে (Rejuvenation)

বিস্তারিত ব্যাখ্যা: যখন কোনো অঞ্চলের ভূ-উত্থান ঘটে বা সমুদ্রপৃষ্ঠ নেমে যায়, তখন নদী পুনর্যৌবন লাভ করে এবং তার নিম্নক্ষয়ের ক্ষমতা আবার বেড়ে যায়। তখন নদী তার পুরানো আঁকাবাঁকা গতিপথ বরাবরই গভীর উপত্যকা খোদাই করতে শুরু করে। এই গভীর, খাড়া পাড়যুক্ত নদীবাঁকগুলিকে ইনসাইজড মিয়েন্ডার বলে।

Q. নিম্নলিখিত কোন জাতীয় উদ্যানটি ‘হ্যাঙ্গুল’ বা কাশ্মীরি হরিণের (Kashmir Stag) একমাত্র প্রাকৃতিক আবাসস্থল?

  • (A) জিম করবেট জাতীয় উদ্যান
  • (B) দাচিগাম জাতীয় উদ্যান
  • (C) হেমিস জাতীয় উদ্যান
  • (D) গ্রেট হিমালয়ান জাতীয় উদ্যান

সঠিক উত্তর: (B) দাচিগাম জাতীয় উদ্যান

বিস্তারিত ব্যাখ্যা: দাচিগাম জাতীয় উদ্যানটি জম্মু ও কাশ্মীরের শ্রীনগরের কাছে অবস্থিত। এটিই বিশ্বের একমাত্র স্থান যেখানে বিপন্ন প্রজাতির হ্যাঙ্গুল বা কাশ্মীরি হরিণ পাওয়া যায়। হেমিস জাতীয় উদ্যান স্নো লেপার্ড বা তুষার চিতার জন্য বিখ্যাত।

Q. ‘ওয়েস্টার্ন ডিস্টার্বেন্স’ (Western Disturbance) বা পশ্চিমী ঝঞ্ঝার ফলে ভারতের কোন অঞ্চলে শীতকালে বৃষ্টিপাত হয়?

  • (A) করমণ্ডল উপকূল
  • (B) উত্তর-পশ্চিম ভারত (পাঞ্জাব, হরিয়ানা)
  • (C) পশ্চিমবঙ্গ ও আসাম
  • (D) কেরালা ও কর্ণাটক

সঠিক উত্তর: (B) উত্তর-পশ্চিম ভারত (পাঞ্জাব, হরিয়ানা)

বিস্তারিত ব্যাখ্যা: পশ্চিমী ঝঞ্ঝা হলো ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল থেকে সৃষ্ট এক প্রকার বহিঃক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড়। এটি শীতকালে পশ্চিমী জেট বায়ুর প্রভাবে বাহিত হয়ে উত্তর-পশ্চিম ভারতে বৃষ্টিপাত এবং হিমালয়ে তুষারপাত ঘটায়। এই বৃষ্টিপাত রবি শস্য, বিশেষ করে গমের চাষের জন্য অত্যন্ত উপকারী।

Q. ভারতের কোন মৃত্তিকা কার্পাস বা তুলা চাষের জন্য সবচেয়ে উপযোগী এবং এটি কী ধরনের শিলা থেকে সৃষ্টি হয়?

  • (A) ল্যাটেরাইট মৃত্তিকা; ল্যাটেরাইট শিলা
  • (B) পলি মৃত্তিকা; নদীর পলি
  • (C) কৃষ্ণ মৃত্তিকা বা রেগুর; ব্যাসল্ট শিলা
  • (D) লোহিত মৃত্তিকা; গ্রানাইট ও নিস শিলা

সঠিক উত্তর: (C) কৃষ্ণ মৃত্তিকা বা রেগুর; ব্যাসল্ট শিলা

বিস্তারিত ব্যাখ্যা: কৃষ্ণ মৃত্তিকা, যা রেগুর বা ব্ল্যাক কটন সয়েল নামেও পরিচিত, তুলা চাষের জন্য আদর্শ। এই মাটির জলধারণ ক্ষমতা খুব বেশি। দাক্ষিণাত্যের লাভা মালভূমি অঞ্চলে ক্রিটেশিয়াস যুগে নির্গত ব্যাসল্ট শিলা থেকে এই মৃত্তিকার সৃষ্টি হয়েছে।

Q. নিম্নলিখিত কোন সমুদ্রস্রোতটি শীতল প্রকৃতির?

  • (A) গালফ স্ট্রিম (Gulf Stream)
  • (B) কুরোশিও স্রোত (Kuroshio Current)
  • (C) বেঙ্গুয়েলা স্রোত (Benguela Current)
  • (D) ব্রাজিল স্রোত (Brazil Current)

সঠিক উত্তর: (C) বেঙ্গুয়েলা স্রোত (Benguela Current)

বিস্তারিত ব্যাখ্যা: বেঙ্গুয়েলা স্রোত দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরের একটি শীতল স্রোত যা আফ্রিকার পশ্চিম উপকূল বরাবর উত্তর দিকে প্রবাহিত হয়। অন্যদিকে, গালফ স্ট্রিম (উত্তর আটলান্টিক), কুরোশিও স্রোত (উত্তর প্রশান্ত মহাসাগর) এবং ব্রাজিল স্রোত (দক্ষিণ আটলান্টিক) – এই তিনটিই উষ্ণ স্রোত।

Q. ‘রিং অফ ফায়ার’ (Ring of Fire) বলতে প্রশান্ত মহাসাগরের চারপাশে অবস্থিত একটি অঞ্চলকে বোঝায়। এই অঞ্চলটি কিসের জন্য বিখ্যাত?

  • (A) প্রবাল প্রাচীরের জন্য
  • (B) ঘন ঘন সামুদ্রিক ঝড়ের জন্য
  • (C) সক্রিয় আগ্নেয়গিরি এবং ঘন ঘন ভূমিকম্পের জন্য
  • (D) মৎস্য আহরণের জন্য

সঠিক উত্তর: (C) সক্রিয় আগ্নেয়গিরি এবং ঘন ঘন ভূমিকম্পের জন্য

বিস্তারিত ব্যাখ্যা: রিং অফ ফায়ার হল প্রশান্ত মহাসাগরকে ঘিরে থাকা একটি বৃত্তাকার অঞ্চল যেখানে পৃথিবীর অধিকাংশ (প্রায় ৭৫%) সক্রিয় আগ্নেয়গিরি অবস্থিত এবং ৯০% ভূমিকম্প ঘটে। এই অঞ্চলটি বিভিন্ন টেকটোনিক পাতের সংযোগস্থলে অবস্থিত।

Q. ডানকান প্যাসেজ (Duncan Passage) কোন দুটি দ্বীপকে পৃথক করেছে?

  • (A) উত্তর আন্দামান এবং মধ্য আন্দামান
  • (B) দক্ষিণ আন্দামান এবং লিটল আন্দামান
  • (C) লিটল আন্দামান এবং কার নিকোবর
  • (D) ভারত এবং শ্রীলঙ্কা

সঠিক উত্তর: (B) দক্ষিণ আন্দামান এবং লিটল আন্দামান

বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ডানকান প্যাসেজ ভারত মহাসাগরের একটি প্রণালী যা আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের অন্তর্গত। এটি রাটল্যান্ড দ্বীপ (গ্রেট আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের অংশ) এবং লিটল আন্দামানকে পৃথক করেছে। দশ ডিগ্রি চ্যানেল আন্দামান দ্বীপপুঞ্জকে নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ থেকে পৃথক করে।

Q. হিমালয়ের পাদদেশের সমভূমিতে নদী দ্বারা সঞ্চিত নুড়ি, বালি ও প্রস্তরখণ্ড দ্বারা গঠিত ভূমিরূপকে কী বলা হয়?

  • (A) ভাবর (Bhabar)
  • (B) তরাই (Terai)
  • (C) ভাঙ্গর (Bhangar)
  • (D) খাদার (Khadar)

সঠিক উত্তর: (A) ভাবর (Bhabar)

বিস্তারিত ব্যাখ্যা: হিমালয় থেকে নেমে আসা নদীগুলি শিবালিক পর্বতমালার পাদদেশে তাদের বহন করে আনা বড় বড় নুড়ি, পাথর ইত্যাদি সঞ্চয় করে একটি সচ্ছিদ্র (porous) অঞ্চল তৈরি করে। এই অঞ্চলকে ভাবর বলে। এখানকার সচ্ছিদ্রতার কারণে ছোট ছোট নদীগুলি অন্তর্হিত হয়ে যায়।

Q. পৃথিবীর আবর্তনের দিক পরিবর্তন হলে, অর্থাৎ পশ্চিম থেকে পূর্বের পরিবর্তে পূর্ব থেকে পশ্চিমে ঘুরলে, কী ঘটবে?

  • (A) দিন-রাত্রির দৈর্ঘ্য পরিবর্তন হবে।
  • (B) ঋতু পরিবর্তন হবে না।
  • (C) সূর্য পশ্চিমে উদিত হবে এবং পূর্বে অস্ত যাবে।
  • (D) পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্র বিলুপ্ত হবে।

সঠিক উত্তর: (C) সূর্য পশ্চিমে উদিত হবে এবং পূর্বে অস্ত যাবে।

বিস্তারিত ব্যাখ্যা: পৃথিবী তার অক্ষের উপর পশ্চিম থেকে পূর্বে আবর্তন করে বলেই আমরা সূর্যকে পূর্ব দিকে উদিত হতে এবং পশ্চিম দিকে অস্ত যেতে দেখি। যদি পৃথিবীর আবর্তনের দিক উল্টে যায়, তাহলে আমাদের সাপেক্ষে সূর্যের আপাত গতির দিকও উল্টে যাবে।

Q. ‘স্যাভানা’ (Savanna) তৃণভূমি অঞ্চলে কোন ধরনের জলবায়ু দেখা যায় এবং এর প্রধান বৈশিষ্ট্য কী?

  • (A) ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু; শুষ্ক গ্রীষ্মকাল ও আর্দ্র শীতকাল।
  • (B) ক্রান্তীয় মৌসুমী জলবায়ু; সুস্পষ্ট আর্দ্র ও শুষ্ক ঋতু এবং লম্বা ঘাস ও বিক্ষিপ্ত গাছপালা।
  • (C) নাতিশীতোষ্ণ মহাদেশীয় জলবায়ু; চরমভাবাপন্ন তাপমাত্রা ও ছোট ঘাস।
  • (D) নিরক্ষীয় জলবায়ু; সারাবছর বৃষ্টিপাত ও ঘন অরণ্য।

সঠিক উত্তর: (B) ক্রান্তীয় মৌসুমী জলবায়ু; সুস্পষ্ট আর্দ্র ও শুষ্ক ঋতু এবং লম্বা ঘাস ও বিক্ষিপ্ত গাছপালা।

বিস্তারিত ব্যাখ্যা: স্যাভানা তৃণভূমি ক্রান্তীয় অঞ্চলে (নিরক্ষীয় অরণ্য এবং উষ্ণ মরুভূমির মধ্যবর্তী স্থানে) দেখা যায়। এখানকার প্রধান বৈশিষ্ট্য হল একটি দীর্ঘ শুষ্ক ঋতু এবং একটি সংক্ষিপ্ত আর্দ্র ঋতু। তাই এখানে লম্বা ঘাসের বিশাল প্রান্তর এবং তার মাঝে মাঝে ছড়ানো-ছিটানো গাছ দেখা যায়।

Q. ‘শিফটিং কাল্টিভেশন’ (Shifting Cultivation) বা স্থানান্তর কৃষি ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে কী নামে পরিচিত?

  • (A) পোডু (Podu)
  • (B) ঝুম (Jhum)
  • (C) বেওয়ার (Bewar)
  • (D) পোনম (Ponam)

সঠিক উত্তর: (B) ঝুম (Jhum)

বিস্তারিত ব্যাখ্যা: স্থানান্তর কৃষি একটি আদিম কৃষি পদ্ধতি। এটি বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন নামে পরিচিত। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলিতে এটি ‘ঝুম’ চাষ নামে পরিচিত। অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশায় ‘পোডু’, মধ্যপ্রদেশে ‘বেওয়ার’ এবং কেরালায় ‘পোনম’ বলা হয়।

Q. বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে ওজন গ্যাসের (Ozone Gas) ঘনত্ব সর্বাধিক থাকে এবং এটি আমাদের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ?

  • (A) ট্রপোস্ফিয়ার; আবহাওয়ার পরিবর্তন ঘটায়।
  • (B) স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার; সূর্যের ক্ষতিকারক অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে।
  • (C) মেসোস্ফিয়ার; উল্কাপিণ্ড পুড়িয়ে ছাই করে দেয়।
  • (D) থার্মোস্ফিয়ার; বেতার তরঙ্গ প্রতিফলিত করে।

সঠিক উত্তর: (B) স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার; সূর্যের ক্ষতিকারক অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে।

বিস্তারিত ব্যাখ্যা: বায়ুমণ্ডলের দ্বিতীয় স্তর স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারের (ভূমি থেকে প্রায় ১৫-৩৫ কিমি উচ্চতায়) মধ্যে ওজোন গ্যাসের একটি ঘনীভূত স্তর রয়েছে, যা ওজোন স্তর নামে পরিচিত। এই স্তরটি সূর্য থেকে আগত ক্ষতিকারক অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে জীবজগতকে রক্ষা করে।

Q. কোন দুটি নদীর মিলিত প্রবাহের নাম মেঘনা?

  • (A) গঙ্গা ও যমুনা
  • (B) পদ্মা ও ব্রহ্মপুত্র
  • (C) সুরমা ও কুশিয়ারা
  • (D) তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র

সঠিক উত্তর: (C) সুরমা ও কুশিয়ারা

বিস্তারিত ব্যাখ্যা: মণিপুরের পার্বত্য অঞ্চল থেকে উৎপন্ন বরাক নদী বাংলাদেশে প্রবেশ করে সুরমা ও কুশিয়ারা নামে দুটি শাখায় বিভক্ত হয়। এই দুটি শাখা কিছুদূর প্রবাহিত হওয়ার পর আবার মিলিত হয়ে মেঘনা নাম ধারণ করে। পরবর্তীতে চাঁদপুরের কাছে এটি পদ্মা (গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্রের মিলিত প্রবাহ) নদীর সঙ্গে মিশে মেঘনা নামেই বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়।

Q. ‘সিয়াচেন হিমবাহ’ কোন পর্বতশ্রেণীতে অবস্থিত এবং কোন নদীর উৎস?

  • (A) পির পাঞ্জাল পর্বতশ্রেণী; ঝিলাম নদী
  • (B) কারাকোরাম পর্বতশ্রেণী; নুব্রা নদী
  • (C) জাস্কর পর্বতশ্রেণী; সিন্ধু নদী
  • (D) লাদাখ পর্বতশ্রেণী; শায়ক নদী

সঠিক উত্তর: (B) কারাকোরাম পর্বতশ্রেণী; নুব্রা নদী

বিস্তারিত ব্যাখ্যা: সিয়াচেন হিমবাহ পৃথিবীর মেরু অঞ্চলের বাইরে দ্বিতীয় দীর্ঘতম হিমবাহ এবং এটি পূর্ব কারাকোরাম পর্বতশ্রেণীতে অবস্থিত। এটি বিশ্বের সর্বোচ্চ যুদ্ধক্ষেত্র হিসেবেও পরিচিত। এই হিমবাহটি নুব্রা নদীর উৎস, যা পরবর্তীতে শায়ক নদীতে মিলিত হয় এবং শায়ক নদী সিন্ধু নদের একটি উপনদী।

Q. বায়ুর ক্ষয়কার্যের ফলে ব্যাঙের ছাতার মতো দেখতে ভূমিরূপকে কী বলা হয়?

  • (A) ইয়ারদাং
  • (B) জিউগেন
  • (C) গৌর
  • (D) ইনসেলবার্গ

সঠিক উত্তর: (C) গৌর

বিস্তারিত ব্যাখ্যা: মরু অঞ্চলে বায়ুর অবঘর্ষ প্রক্রিয়ার ফলে কোনো কঠিন শিলার নীচের দিকের নরম অংশ বেশি ক্ষয়প্রাপ্ত হয় এবং উপরের কঠিন অংশ কম ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। এর ফলে যে ব্যাঙের ছাতার মতো ভূমিরূপ তৈরি হয়, তাকে গৌর (Gour) বা গার (Gara) বলা হয়। ইয়ারদাং ও জিউগেন হল বায়ুর ক্ষয়কার্যের ফলে গঠিত অন্য দুই প্রকার ভূমিরূপ, কিন্তু তাদের আকৃতি ভিন্ন।

Q. ভারতের কোন রাজ্যে ‘লোকটাক হ্রদ’ অবস্থিত এবং এর প্রধান বৈশিষ্ট্য কী?

  • (A) ওড়িশা; এটি ভারতের বৃহত্তম লবণাক্ত জলের হ্রদ।
  • (B) জম্মু ও কাশ্মীর; এটি একটি মিষ্টি জলের হ্রদ এবং পর্যটন কেন্দ্র।
  • (C) মণিপুর; এটি ভাসমান দ্বীপ বা ‘ফুমডি’র জন্য বিখ্যাত।
  • (D) কেরালা; এটি একটি কয়াল বা ব্যাকওয়াটার।

সঠিক উত্তর: (C) মণিপুর; এটি ভাসমান দ্বীপ বা ‘ফুমডি’র জন্য বিখ্যাত।

বিস্তারিত ব্যাখ্যা: লোকটাক হ্রদ হল উত্তর-পূর্ব ভারতের বৃহত্তম মিষ্টি জলের হ্রদ, যা মণিপুর রাজ্যে অবস্থিত। এই হ্রদের সবচেয়ে অনন্য বৈশিষ্ট্য হল এর উপর ভাসমান উদ্ভিদ, মাটি ও জৈব পদার্থ দ্বারা গঠিত দ্বীপ, যেগুলিকে স্থানীয় ভাষায় ‘ফুমডি’ (Phumdis) বলা হয়। বিশ্বের একমাত্র ভাসমান জাতীয় উদ্যান ‘কেইবুল লামজাও জাতীয় উদ্যান’ এই হ্রদের উপরেই অবস্থিত।

Q. অয়নান্ত (Solstice) এবং বিষুব (Equinox) এর মধ্যে মূল পার্থক্য কী?

  • (A) অয়নান্তের দিনে দিন ও রাত্রি সমান হয়, বিষুবের দিনে হয় না।
  • (B) অয়নান্তের দিনে সূর্য নিরক্ষরেখার উপর লম্বভাবে কিরণ দেয়, বিষুবের দিনে কর্কটক্রান্তি বা মকরক্রান্তি রেখার উপর দেয়।
  • (C) অয়নান্তের দিনে দিন ও রাত্রির দৈর্ঘ্যের পার্থক্য সর্বাধিক হয়, বিষুবের দিনে দিন ও রাত্রি সমান হয়।
  • (D) অয়নান্ত বছরে একবার এবং বিষুব বছরে দুবার হয়।

সঠিক উত্তর: (C) অয়নান্তের দিনে দিন ও রাত্রির দৈর্ঘ্যের পার্থক্য সর্বাধিক হয়, বিষুবের দিনে দিন ও রাত্রি সমান হয়।

বিস্তারিত ব্যাখ্যা: বিষুব (Equinox) কথার অর্থ ‘সমান রাত্রি’। বছরে দুদিন (সাধারণত ২১শে মার্চ ও ২৩শে সেপ্টেম্বর) সূর্য নিরক্ষরেখার উপর লম্বভাবে কিরণ দেয়, ফলে পৃথিবীর সর্বত্র দিন ও রাত্রি সমান হয়। একে মহাবিষুব ও জলবিষুব বলে। অন্যদিকে, অয়নান্ত (Solstice) হল সেই দিন যখন সূর্য কর্কটক্রান্তি (২১শে জুন) বা মকরক্রান্তি (২২শে ডিসেম্বর) রেখার উপর লম্বভাবে কিরণ দেয়। এই দিনগুলিতে সংশ্লিষ্ট গোলার্ধে দিন সবচেয়ে বড় এবং রাত্রি সবচেয়ে ছোট হয়, অর্থাৎ দিন-রাত্রির দৈর্ঘ্যের পার্থক্য সর্বোচ্চ হয়।

Q. [ইতিহাস] কে সর্বপ্রথম অশোকের শিলালিপির পাঠোদ্ধার করেন?

  • (A) স্যার উইলিয়াম জোন্স
  • (B) জেমস প্রিন্সেপ
  • (C) আলেকজান্ডার কানিংহাম
  • (D) জন মার্শাল

সঠিক উত্তর: (B) জেমস প্রিন্সেপ

বিস্তারিত ব্যাখ্যা: জেমস প্রিন্সেপ, যিনি এশিয়াটিক সোসাইটি অফ বেঙ্গলের একজন আধিকারিক ছিলেন, ১৮৩৭ সালে প্রথম ব্রাহ্মী লিপির পাঠোদ্ধার করতে সক্ষম হন। যেহেতু অশোকের অধিকাংশ শিলালিপি ব্রাহ্মী লিপিতে খোদিত ছিল, তাই এর ফলেই অশোকের শিলালিপিগুলির অর্থ বোঝা সম্ভব হয় এবং প্রাচীন ভারতের ইতিহাস জানার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়।

Q. [রাষ্ট্রবিজ্ঞান] কোনো রাজ্যের রাজ্যপালকে শপথবাক্য কে পাঠ করান?

  • (A) ভারতের রাষ্ট্রপতি
  • (B) ভারতের প্রধান বিচারপতি
  • (C) সংশ্লিষ্ট রাজ্যের হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি
  • (D) মুখ্যমন্ত্রী

সঠিক উত্তর: (C) সংশ্লিষ্ট রাজ্যের হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি

বিস্তারিত ব্যাখ্যা: সংবিধানের ১৫৯ নং ধারা অনুসারে, প্রত্যেক রাজ্যপাল তাঁর কার্যভার গ্রহণ করার আগে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির (অথবা তাঁর অনুপস্থিতিতে ওই আদালতের প্রবীণতম বিচারপতির) সামনে শপথ গ্রহণ করেন বা প্রতিজ্ঞা করেন। যদিও রাজ্যপালকে নিয়োগ করেন রাষ্ট্রপতি, কিন্তু শপথবাক্য পাঠ করান হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি।

Q. [ভূগোল] ‘ডোলড্রামস’ (Doldrums) বলতে কোন অঞ্চলকে বোঝায়?

  • (A) মেরু অঞ্চলের উচ্চচাপ বলয়
  • (B) উপক্রান্তীয় অঞ্চলের উচ্চচাপ বলয় (অশ্ব অক্ষাংশ)
  • (C) নিরক্ষীয় অঞ্চলের নিম্নচাপ ও শান্ত বলয়
  • (D) উপমেরু অঞ্চলের নিম্নচাপ বলয়

সঠিক উত্তর: (C) নিরক্ষীয় অঞ্চলের নিম্নচাপ ও শান্ত বলয়

বিস্তারিত ব্যাখ্যা: নিরক্ষরেখার উভয় পাশে প্রায় ৫° থেকে ১০° অক্ষাংশ পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলে সূর্যরশ্মি প্রায় লম্বভাবে পড়ায় বায়ু উষ্ণ ও হালকা হয়ে উপরে উঠে যায়। ফলে এখানে বায়ুর কোনো অনুভূমিক প্রবাহ থাকে না বললেই চলে। এই শান্ত, বায়ুর প্রবাহহীন অবস্থাকে ‘ডোলড্রামস’ বা নিরক্ষীয় শান্ত বলয় বলা হয়।

Q. [ইতিহাস] কোন মুঘল সম্রাট তাঁর আত্মজীবনী ‘তুজুক-ই-বাবরি’ রচনা করেন, যা মূলত কোন ভাষায় লেখা হয়েছিল?

  • (A) আকবর; ফারসি ভাষায়
  • (B) বাবর; চাগতাই তুর্কি ভাষায়
  • (C) হুমায়ুন; আরবি ভাষায়
  • (D) জাহাঙ্গীর; ফারসি ভাষায়

সঠিক উত্তর: (B) বাবর; চাগতাই তুর্কি ভাষায়

বিস্তারিত ব্যাখ্যা: মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা বাবর তাঁর আত্মজীবনী ‘বাবরনামা’ বা ‘তুজুক-ই-বাবরি’ রচনা করেন। এটি মুঘল দরবারের সরকারি ভাষা ফারসির পরিবর্তে তাঁর মাতৃভাষা চাগতাই তুর্কি ভাষায় লেখা হয়েছিল। পরবর্তীতে আকবরের সময়কালে আবদুর রহিম খান-ই-খানান এটি ফারসি ভাষায় অনুবাদ করেন।

Q. [রাষ্ট্রবিজ্ঞান] সংবিধানের কোন অংশে পঞ্চায়েত ব্যবস্থা সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে এবং এটি কোন সংশোধনীর মাধ্যমে সাংবিধানিক মর্যাদা লাভ করে?

  • (A) অংশ IX; ৭৩তম সংশোধনী
  • (B) অংশ IX-A; ৭৪তম সংশোধনী
  • (C) অংশ X; ৭৩তম সংশোধনী
  • (D) অংশ XI; ৭৪তম সংশোধনী

সঠিক উত্তর: (A) অংশ IX; ৭৩তম সংশোধনী

বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ১৯৯২ সালের ৭৩তম সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে পঞ্চায়েতি রাজ প্রতিষ্ঠানগুলিকে সাংবিধানিক মর্যাদা দেওয়া হয়। এর জন্য সংবিধানে একটি নতুন অংশ (Part IX) এবং একটি নতুন তফসিল (Eleventh Schedule) যুক্ত করা হয়। এই অংশে ২৪৩ থেকে ২৪৩-ও পর্যন্ত মোট ১৬টি ধারা রয়েছে।

Q. [ভূগোল] নাগার্জুন সাগর বহুমুখী নদী পরিকল্পনা কোন নদীর উপর অবস্থিত?

  • (A) গোদাবরী নদী
  • (B) কাবেরী নদী
  • (C) কৃষ্ণা নদী
  • (D) মহানদী

সঠিক উত্তর: (C) কৃষ্ণা নদী

বিস্তারিত ব্যাখ্যা: নাগার্জুন সাগর বাঁধ ভারতের তেলেঙ্গানা ও অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্যের সীমান্তে কৃষ্ণা নদীর উপর নির্মিত একটি গুরুত্বপূর্ণ বহুমুখী প্রকল্প। এটি জলসেচ, জলবিদ্যুৎ উৎপাদন এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। বৌদ্ধ দার্শনিক নাগার্জুনের নামে এই বাঁধের নামকরণ করা হয়েছে।

Q. [ইতিহাস] ক্রিপস মিশন (১৯৪২) এর প্রস্তাবগুলিকে কে একটি ‘post-dated cheque on a crashing bank’ বলে অভিহিত করেছিলেন?

  • (A) জওহরলাল নেহেরু
  • (B) সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল
  • (C) মহাত্মা গান্ধী
  • (D) সুভাষচন্দ্র বসু

সঠিক উত্তর: (C) মহাত্মা গান্ধী

বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ক্রিপস মিশন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ভারতকে ডোমিনিয়ন স্ট্যাটাস দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু কংগ্রেস পূর্ণ স্বরাজের দাবিতে অটল ছিল। গান্ধীজি এই প্রস্তাবটিকে একটি ‘ফেল করা ব্যাঙ্কের উপর ভবিষ্যতের তারিখের চেক’ বলে কটাক্ষ করেন, কারণ ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের পতন তখন আসন্ন বলে মনে হচ্ছিল এবং এই প্রতিশ্রুতির কোনো মূল্য ছিল না।

Q. [রাষ্ট্রবিজ্ঞান] লোকপাল (Lokpal) এবং लोकायुक्त (Lokayukta) আইন, ২০১৩ অনুযায়ী, লোকপালের চেয়ারম্যান এবং সদস্যদের নিয়োগের জন্য গঠিত নির্বাচন কমিটিতে কে থাকেন না?

  • (A) প্রধানমন্ত্রী
  • (B) লোকসভার স্পিকার
  • (C) ভারতের প্রধান বিচারপতি বা তাঁর মনোনীত কোনো সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি
  • (D) রাষ্ট্রপতি

সঠিক উত্তর: (D) রাষ্ট্রপতি

বিস্তারিত ব্যাখ্যা: লোকপালের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের নিয়োগ করেন রাষ্ট্রপতি, কিন্তু তিনি নিজে নির্বাচন কমিটির অংশ নন। নির্বাচন কমিটি (Selection Committee) নিম্নলিখিত সদস্যদের নিয়ে গঠিত: ১. প্রধানমন্ত্রী (চেয়ারপার্সন), ২. লোকসভার স্পিকার, ৩. লোকসভার বিরোধী দলনেতা, ৪. ভারতের প্রধান বিচারপতি বা তাঁর মনোনীত সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, এবং ৫. একজন প্রখ্যাত আইনজ্ঞ (যাকে কমিটির বাকি চারজন সদস্যের সুপারিশে রাষ্ট্রপতি মনোনীত করেন)।

Q. [ভূগোল] ‘অ্যাপোজি’ (Apogee) এবং ‘পেরিজি’ (Perigee) বলতে কী বোঝায়?

  • (A) পৃথিবীর কক্ষপথে সূর্য থেকে পৃথিবীর যথাক্রমে নিকটতম ও দূরতম অবস্থান।
  • (B) চাঁদের কক্ষপথে পৃথিবী থেকে চাঁদের যথাক্রমে দূরতম ও নিকটতম অবস্থান।
  • (C) পৃথিবীর কক্ষপথে মঙ্গল গ্রহের নিকটতম ও দূরতম অবস্থান।
  • (D) চাঁদের কক্ষপথে সূর্য থেকে চাঁদের যথাক্রমে দূরতম ও নিকটতম অবস্থান।

সঠিক উত্তর: (B) চাঁদের কক্ষপথে পৃথিবী থেকে চাঁদের যথাক্রমে দূরতম ও নিকটতম অবস্থান।

বিস্তারিত ব্যাখ্যা: চাঁদ তার উপবৃত্তাকার কক্ষপথে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করার সময় পৃথিবী থেকে তার দূরত্ব পরিবর্তিত হয়। যখন চাঁদ পৃথিবী থেকে সবচেয়ে দূরে থাকে, সেই অবস্থানকে অ্যাপোজি (Apogee) বা অপভূ বলা হয়। আর যখন চাঁদ পৃথিবী থেকে সবচেয়ে কাছে থাকে, সেই অবস্থানকে পেরিজি (Perigee) বা অনুভূ বলা হয়। পেরিজি অবস্থানে চাঁদকে কিছুটা বড় দেখায় (সুপারমুন) এবং এর মাধ্যাকর্ষণ প্রভাবও বেশি থাকে।

Q. [ইতিহাস] ‘ক্যাবিনেট মিশন প্ল্যান’ (১৯৪৬) এর মূল প্রস্তাবনা কী ছিল?

  • (A) ভারতকে অবিলম্বে স্বাধীনতা প্রদান এবং ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি রাষ্ট্র গঠন।
  • (B) একটি অখণ্ড ভারতীয় ইউনিয়ন গঠন যেখানে প্রদেশগুলিকে তিনটি গ্রুপে ভাগ করার প্রস্তাব ছিল এবং পৃথক পাকিস্তানের দাবি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল।
  • (C) দেশীয় রাজ্যগুলিকে সম্পূর্ণ সার্বভৌমত্ব প্রদান।
  • (D) ভারতকে ডোমিনিয়ন স্ট্যাটাস দেওয়া।

সঠিক উত্তর: (B) একটি অখণ্ড ভারতীয় ইউনিয়ন গঠন যেখানে প্রদেশগুলিকে তিনটি গ্রুপে ভাগ করার প্রস্তাব ছিল এবং পৃথক পাকিস্তানের দাবি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল।

বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ক্যাবিনেট মিশন সরাসরি পাকিস্তানের দাবি নাকচ করে দেয়। এর পরিবর্তে এটি একটি দুর্বল কেন্দ্রসহ একটি অখণ্ড ভারতীয় ইউনিয়নের প্রস্তাব করে। প্রদেশগুলিকে তিনটি গ্রুপে বিভক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়: (A) হিন্দু-সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রদেশ, (B) মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ উত্তর-পশ্চিম প্রদেশ, এবং (C) মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ উত্তর-পূর্ব প্রদেশ (বাংলা ও আসাম)। এই জটিল প্রস্তাব কংগ্রেস এবং মুসলিম লীগ উভয়ই প্রত্যাখ্যান করায় এটি ব্যর্থ হয়।

Q. [রাষ্ট্রবিজ্ঞান] কোন সাংবিধানিক সংশোধনী আইনকে ‘GST (Goods and Services Tax) আইন’ বলা হয়?

  • (A) ৯৯তম সংশোধনী আইন
  • (B) ১০০তম সংশোধনী আইন
  • (C) ১০১তম সংশোধনী আইন
  • (D) ১০৩তম সংশোধনী আইন

সঠিক উত্তর: (C) ১০১তম সংশোধনী আইন

বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ২০১৬ সালের ১০১তম সংবিধান সংশোধনী আইনের মাধ্যমে ভারতে পণ্য ও পরিষেবা কর বা GST চালু করা হয়। এটি একটি পরোক্ষ কর যা কেন্দ্র ও রাজ্য দ্বারা আরোপিত বিভিন্ন করকে (যেমন VAT, পরিষেবা কর, কেন্দ্রীয় আবগারি শুল্ক) প্রতিস্থাপিত করেছে। এর জন্য সংবিধানে নতুন ধারা (যেমন 246A, 269A, 279A) যুক্ত করা হয়েছে।

Q. [ভূগোল] হিমবাহের সঞ্চয়কার্যের ফলে গঠিত ত্রিকোণাকার ব-দ্বীপের মতো দেখতে ভূমিরূপকে কী বলা হয়?

  • (A) ড্রামলিন (Drumlin)
  • (B) এসকার (Esker)
  • (C) কেম (Kame)
  • (D) মোরেইন (Moraine)

সঠিক উত্তর: (C) কেম (Kame)

বিস্তারিত ব্যাখ্যা: হিমবাহ যখন গলতে শুরু করে, তখন তার মধ্যেকার বা প্রান্তের ফাটলে জল জমে হ্রদের সৃষ্টি হয়। সেই হ্রদের তলদেশে নুড়ি, বালি, কাদা ইত্যাদি স্তরে স্তরে সঞ্চিত হয়ে যে ত্রিকোণাকার বা ব-দ্বীপের মতো ভূমিরূপ গঠন করে, তাকে কেম বলে। ড্রামলিন হল উল্টানো নৌকা বা চামচের মতো দেখতে ভূমিরূপ, এসকার হল আঁকাবাঁকা শৈলশিরার মতো ভূমিরূপ এবং মোরেইন হল হিমবাহ দ্বারা বাহিত ও সঞ্চিত বিভিন্ন আকৃতির শিলাখণ্ড।

Q. [ইতিহাস] ‘দেবনামপিয় পিয়দসি’ (Devanampiya Piyadasi) উপাধিটি কোন প্রাচীন ভারতীয় শাসক গ্রহণ করেছিলেন?

  • (A) চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য
  • (B) অশোক
  • (C) কনিষ্ক
  • (D) হর্ষবর্ধন

সঠিক উত্তর: (B) অশোক

বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ‘দেবনামপিয়’ শব্দের অর্থ ‘দেবতাদের প্রিয়’ এবং ‘পিয়দসি’ শব্দের অর্থ ‘যিনি সকলকে স্নেহের চোখে দেখেন’। মৌর্য সম্রাট অশোক তাঁর শিলালিপিগুলিতে নিজেকে এই নামে অভিহিত করেছেন। ১৯১৫ সালে মাস্কি শিলালিপি আবিষ্কারের আগে পর্যন্ত ঐতিহাসিকরা নিশ্চিত ছিলেন না যে ‘দেবনামপিয় পিয়দসি’ এবং অশোক একই ব্যক্তি।

Q. [রাষ্ট্রবিজ্ঞান] কোনো ব্যক্তিকে বেআইনিভাবে আটক করে রাখলে, সুপ্রিম কোর্ট বা হাইকোর্ট কোন রিট (Writ) জারি করতে পারে?

  • (A) ম্যান্ডামাস (Mandamus)
  • (B) প্রোহিবিশন (Prohibition)
  • (C) হেবিয়াস কর্পাস (Habeas Corpus)
  • (D) সার্টিওরারি (Certiorari)

সঠিক উত্তর: (C) হেবিয়াস কর্পাস (Habeas Corpus)

বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ‘হেবিয়াস কর্পাস’ একটি ল্যাটিন শব্দগুচ্ছ যার অর্থ ‘to have the body of’ বা ‘সশরীরে হাজির করা’। কোনো ব্যক্তিকে বেআইনিভাবে আটক করা হলে, এই রিটের মাধ্যমে আদালত আটককারী কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয় যে, আটক ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আদালতের সামনে হাজির করতে হবে এবং তার আটকের কারণ দর্শাতে হবে। আটকের কারণ আইনসম্মত না হলে আদালত তাকে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দেয়।

Q. [ভূগোল] পৃথিবীর দুটি ভিন্ন স্থানের মধ্যে দ্রাঘিমার পার্থক্য ১৫° হলে, তাদের স্থানীয় সময়ের পার্থক্য কত হবে?

  • (A) ১৫ মিনিট
  • (B) ৩০ মিনিট
  • (C) ১ ঘন্টা
  • (D) ৪ মিনিট

সঠিক উত্তর: (C) ১ ঘন্টা

বিস্তারিত ব্যাখ্যা: পৃথিবী তার অক্ষের উপর একবার সম্পূর্ণ আবর্তন করতে (৩৬০°) সময় নেয় ২৪ ঘন্টা (বা ১৪৪০ মিনিট)। সুতরাং, ৩৬০° দ্রাঘিমার পার্থক্যের জন্য সময়ের পার্থক্য হয় ২৪ ঘন্টা। ∴ ১° দ্রাঘিমার পার্থক্যের জন্য সময়ের পার্থক্য হয় (১৪৪০ / ৩৬০) = ৪ মিনিট। ∴ ১৫° দ্রাঘিমার পার্থক্যের জন্য সময়ের পার্থক্য হবে (১৫ × ৪) = ৬০ মিনিট বা ১ ঘন্টা।

Q. [ইতিহাস] ‘আইহোল প্রশস্তি’ কে রচনা করেন এবং এটি কোন শাসকের কীর্তি বর্ণনা করে?

  • (A) হরিসেন; সমুদ্রগুপ্ত
  • (B) রবিকীর্তি; দ্বিতীয় পুলকেশী
  • (C) বাণভট্ট; হর্ষবর্ধন
  • (D) সন্ধ্যাকর নন্দী; রামপাল

সঠিক উত্তর: (B) রবিকীর্তি; দ্বিতীয় পুলকেশী

বিস্তারিত ব্যাখ্যা: চালুক্য বংশের সর্বশ্রেষ্ঠ শাসক দ্বিতীয় পুলকেশীর সভাকবি রবিকীর্তি সংস্কৃত ভাষায় ‘আইহোল প্রশস্তি’ রচনা করেন। কর্ণাটকের আইহোলে অবস্থিত মেগুটি মন্দিরের গায়ে এটি খোদিত আছে। এই প্রশস্তিতে হর্ষবর্ধনের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় পুলকেশীর বিজয়ের বিবরণ পাওয়া যায়, যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ঐতিহাসিক উৎস।

Q. [রাষ্ট্রবিজ্ঞান] ভারতের সংবিধানের প্রস্তাবনাকে (Preamble) কে ‘Political Horoscope’ বা ‘রাজনৈতিক কোষ্ঠী’ বলে অভিহিত করেছেন?

  • (A) ড. বি. আর. আম্বেদকর
  • (B) কে. এম. মুন্সী
  • (C) জওহরলাল নেহেরু
  • (D) আর্নেস্ট বার্কার

সঠিক উত্তর: (B) কে. এম. মুন্সী

বিস্তারিত ব্যাখ্যা: গণপরিষদের খসড়া কমিটির অন্যতম সদস্য কে. এম. মুন্সী প্রস্তাবনাকে ‘আমাদের সার্বভৌম গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের রাজনৈতিক কোষ্ঠী’ (political horoscope of our sovereign democratic republic) বলে বর্ণনা করেন। ড. আম্বেদকর সংবিধানের ৩২ নং ধারাকে ‘সংবিধানের হৃদয় ও আত্মা’ বলেছেন, এবং আর্নেস্ট বার্কার প্রস্তাবনাকে ‘key-note to the Constitution’ বলেছেন।

Q. [ভূগোল] কোন ধরনের মেঘ থেকে সাধারণত একটানা বৃষ্টিপাত হয় এবং আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকে?

  • (A) কিউমুলোনিম্বাস (Cumulonimbus)
  • (B) নিম্বোস্ট্র্যাটাস (Nimbostratus)
  • (C) সাইরাস (Cirrus)
  • (D) অল্টোকিউমুলাস (Altocumulus)

সঠিক উত্তর: (B) নিম্বোস্ট্র্যাটাস (Nimbostratus)

বিস্তারিত ব্যাখ্যা: নিম্বোস্ট্র্যাটাস হল একটি স্তরযুক্ত, ধূসর বর্ণের মেঘ যা আকাশকে সম্পূর্ণ ঢেকে রাখে। এই মেঘ থেকে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের একটানা বৃষ্টিপাত বা তুষারপাত হয়। কিউমুলোনিম্বাস মেঘ থেকে বজ্রবিদ্যুৎসহ প্রবল বৃষ্টিপাত হয়। সাইরাস হল পালকের মতো উঁচু মেঘ যা পরিষ্কার আবহাওয়া নির্দেশ করে এবং অল্টোকিউমুলাস হল মাঝারি উচ্চতার ঢেউ খেলানো সাদা বা ধূসর মেঘ।

Q. [ইতিহাস] ‘বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইন’ (Bengal Tenancy Act) কোন সালে এবং কোন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পাস হয়েছিল?

  • (A) ১৮৫৭; সিপাহী বিদ্রোহের পর।
  • (B) ১৮৮৫; পাবনা কৃষক বিদ্রোহের পর।
  • (C) ১৯০৫; বঙ্গভঙ্গের সময়।
  • (D) ১৮৫৯; নীল বিদ্রোহের পর।

সঠিক উত্তর: (B) ১৮৮৫; পাবনা কৃষক বিদ্রোহের পর।

বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ১৮৭৩ সালের পাবনা কৃষক বিদ্রোহের মতো কৃষক আন্দোলনগুলির চাপে ব্রিটিশ সরকার কৃষকদের অধিকার রক্ষার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে। এর ফলস্বরূপ, ১৮৮৫ সালে ‘বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইন’ পাস করা হয়। এই আইনের মাধ্যমে রায়ত বা প্রজাদের উচ্ছেদ করা কঠিন করা হয় এবং তাদের জমির উপর কিছু স্বত্ব প্রদান করা হয়, যা চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের পর থেকে জমিদারদের একচ্ছত্র ক্ষমতার উপর একটি বড় আঘাত ছিল।

Q. [রাষ্ট্রবিজ্ঞান] একটি রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেলকে (Advocate General) কে নিয়োগ করেন?

  • (A) রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী
  • (B) রাজ্যের রাজ্যপাল
  • (C) রাজ্যের হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি
  • (D) ভারতের রাষ্ট্রপতি

সঠিক উত্তর: (B) রাজ্যের রাজ্যপাল

বিস্তারিত ব্যাখ্যা: সংবিধানের ১৬৫ নং ধারা অনুযায়ী, প্রতিটি রাজ্যের রাজ্যপাল সেই রাজ্যের সর্বোচ্চ আইন আধিকারিক বা অ্যাডভোকেট জেনারেলকে নিয়োগ করেন। অ্যাডভোকেট জেনারেলের যোগ্যতা হাইকোর্টের বিচারপতি হওয়ার যোগ্যতার সমান হতে হয়। তিনি রাজ্যপালের সন্তুষ্টি পর্যন্ত পদে থাকেন এবং রাজ্য সরকারে আইনগত পরামর্শ দেন।

Q. [ভূগোল] ভারতের পূর্ব উপকূল এবং পশ্চিম উপকূলের মধ্যে কোনটি অধিক ভগ্ন এবং পোতাশ্রয় নির্মাণের জন্য বেশি উপযোগী?

  • (A) পূর্ব উপকূল, কারণ এটি অধিক বিস্তৃত।
  • (B) পশ্চিম উপকূল, কারণ এটি অধিক ভগ্ন এবং গভীর।
  • (C) উভয় উপকূলই সমানভাবে উপযোগী।
  • (D) কোনোটিই পোতাশ্রয় নির্মাণের জন্য উপযুক্ত নয়।

সঠিক উত্তর: (B) পশ্চিম উপকূল, কারণ এটি অধিক ভগ্ন এবং গভীর।

বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ভারতের পশ্চিম উপকূল হল একটি নিমজ্জিত (submerged) উপকূলের উদাহরণ, যার ফলে এটি বেশ ভগ্ন, সংকীর্ণ এবং এর গভীরতা বেশি। এই ভগ্ন প্রকৃতির কারণে এখানে অনেক স্বাভাবিক পোতাশ্রয় (natural harbour) গড়ে উঠেছে, যেমন মুম্বাই, মার্মাগাঁও, কোচিন। অন্যদিকে, পূর্ব উপকূল হল একটি উত্থিত (emerged) উপকূল, যা তুলনামূলকভাবে কম ভগ্ন এবং এর মহীসোপান অগভীর, তাই এখানে স্বাভাবিক পোতাশ্রয়ের সংখ্যা কম।

Q. [ইতিহাস] ‘মিরআত-উল-আখবার’ (Mirat-ul-Akhbar) নামক ফারসি পত্রিকাটি কে প্রকাশ করেন?

  • (A) স্যার সৈয়দ আহমদ খান
  • (B) রাজা রামমোহন রায়
  • (C) হেনরি ভিভিয়ান ডিরোজিও
  • (D) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর

সঠিক উত্তর: (B) রাজা রামমোহন রায়

বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ভারতীয় নবজাগরণের অগ্রদূত রাজা রামমোহন রায় সংবাদপত্রের স্বাধীনতার একজন বড় সমর্থক ছিলেন। তিনি ১৮২১ সালে বাংলায় ‘সম্বাদ কৌমুদী’ এবং ১৮২২ সালে ফারসি ভাষায় ‘মিরআত-উল-আখবার’ (সংবাদের দর্পণ) নামক পত্রিকা প্রকাশ করেন। এই পত্রিকাগুলির মাধ্যমে তিনি সামাজিক সংস্কার এবং প্রগতিশীল চিন্তাধারার প্রসার ঘটান।

Q. [রাষ্ট্রবিজ্ঞান] সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের অবসরের বয়স কত?

  • (A) ৬০ বছর
  • (B) ৬২ বছর
  • (C) ৬৫ বছর
  • (D) ৭০ বছর

সঠিক উত্তর: (C) ৬৫ বছর

বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ভারতীয় সংবিধানের ১২৪(২) নং ধারা অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্টের একজন বিচারপতি ৬৫ বছর বয়স পর্যন্ত তাঁর পদে আসীন থাকতে পারেন। অন্যদিকে, হাইকোর্টের বিচারপতিদের অবসরের বয়স হল ৬২ বছর।

Q. [ভূগোল] বায়ুমণ্ডলের চাপের দ্রুত পরিবর্তন পরিমাপ করতে কোন যন্ত্র ব্যবহার করা হয়?

  • (A) ব্যারোমিটার (Barometer)
  • (B) অ্যানিমোমিটার (Anemometer)
  • (C) ব্যারোগ্রাফ (Barograph)
  • (D) হাইগ্রোমিটার (Hygrometer)

সঠিক উত্তর: (C) ব্যারোগ্রাফ (Barograph)

বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ব্যারোমিটার বায়ুমণ্ডলের চাপ পরিমাপ করে, কিন্তু চাপের ধারাবাহিক পরিবর্তন বা দ্রুত পরিবর্তন রেকর্ড করার জন্য ব্যারোগ্রাফ ব্যবহার করা হয়। এটি একটি স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র যা একটি ঘূর্ণায়মান ড্রামের উপর গ্রাফ পেপারে সময়ের সাথে সাথে চাপের পরিবর্তনকে লেখচিত্র হিসেবে অঙ্কন করে। অ্যানিমোমিটার বায়ুর গতি এবং হাইগ্রোমিটার বায়ুর আর্দ্রতা পরিমাপ করে।

Q. [ইতিহাস] ‘হর্ষচরিত’ এবং ‘কাদম্বরী’ গ্রন্থ দুটির রচয়িতা কে?

  • (A) হর্ষবর্ধন
  • (B) কালিদাস
  • (C) বাণভট্ট
  • (D) বিশাখদত্ত

সঠিক উত্তর: (C) বাণভট্ট

বিস্তারিত ব্যাখ্যা: বাণভট্ট ছিলেন পুষ্যভূতি বংশের শাসক হর্ষবর্ধনের সভাকবি। তিনি সংস্কৃত ভাষায় হর্ষবর্ধনের জীবনী ‘হর্ষচরিত’ রচনা করেন, যা হর্ষের রাজত্বকাল সম্পর্কে জানার একটি মূল্যবান উৎস। ‘কাদম্বরী’ তাঁর রচিত একটি বিখ্যাত রোমান্টিক উপন্যাস, যা বিশ্বের প্রাচীনতম উপন্যাসগুলির মধ্যে অন্যতম বলে মনে করা হয়।

Q. [রাষ্ট্রবিজ্ঞান] ভারতীয় সংবিধানে ‘একক নাগরিকত্ব’ (Single Citizenship) এর ধারণাটি কোন দেশের সংবিধান থেকে নেওয়া হয়েছে?

  • (A) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
  • (B) কানাডা
  • (C) অস্ট্রেলিয়া
  • (D) যুক্তরাজ্য (ব্রিটেন)

সঠিক উত্তর: (D) যুক্তরাজ্য (ব্রিটেন)

বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ভারত একটি যুক্তরাষ্ট্রীয় দেশ হওয়া সত্ত্বেও, এখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো দ্বৈত নাগরিকত্বের (কেন্দ্র ও রাজ্যের পৃথক নাগরিকত্ব) ব্যবস্থা নেই। ভারতে একজন নাগরিক শুধুমাত্র ভারতেরই নাগরিক, কোনো নির্দিষ্ট রাজ্যের নয়। এই একক নাগরিকত্বের ধারণাটি ব্রিটেনের সংবিধান থেকে অনুপ্রাণিত, যা সারা দেশে একতা ও অখণ্ডতার বোধকে শক্তিশালী করে।

Q. [ভূগোল] জীববৈচিত্র্যের ‘হটস্পট’ (Biodiversity Hotspot) হিসেবে ঘোষিত হওয়ার জন্য দুটি প্রধান শর্ত কী কী?

  • (A) কমপক্ষে ১৫০০টি স্থানীয় (Endemic) ভাস্কুলার উদ্ভিদ প্রজাতি থাকতে হবে এবং তার ৭০% প্রাথমিক বাসস্থান ধ্বংস হয়ে গিয়েছে।
  • (B) একটি বিশাল বনভূমি থাকতে হবে এবং বিপন্ন প্রজাতির প্রাণী থাকতে হবে।
  • (C) এটি একটি জাতীয় উদ্যান হতে হবে এবং ইউনেস্কো দ্বারা স্বীকৃত হতে হবে।
  • (D) কমপক্ষে ৫০০টি স্থানীয় প্রাণী প্রজাতি থাকতে হবে এবং এর ৫০% বাসস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সঠিক উত্তর: (A) কমপক্ষে ১৫০০টি স্থানীয় (Endemic) ভাস্কুলার উদ্ভিদ প্রজাতি থাকতে হবে এবং তার ৭০% প্রাথমিক বাসস্থান ধ্বংস হয়ে গিয়েছে।

বিস্তারিত ব্যাখ্যা: কনজারভেশন ইন্টারন্যাশনালের মতে, একটি অঞ্চলকে বায়োডাইভারসিটি হটস্পট হিসেবে যোগ্যতা অর্জনের জন্য দুটি কঠোর মানদণ্ড পূরণ করতে হয়: (১) অঞ্চলটিতে অবশ্যই কমপক্ষে ০.৫% বা ১৫০০ প্রজাতির স্থানীয় ভাস্কুলার উদ্ভিদ থাকতে হবে (অর্থাৎ এই উদ্ভিদগুলি পৃথিবীর আর কোথাও পাওয়া যায় না), এবং (২) অঞ্চলটিকে অবশ্যই তার মূল প্রাকৃতিক গাছপালার কমপক্ষে ৭০% হারাতে হবে, অর্থাৎ এটি অত্যন্ত বিপদগ্রস্ত হতে হবে।

Q. [ইতিহাস] দ্বিতীয় গোলটেবিল বৈঠকে (Second Round Table Conference) কংগ্রেসের একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে কে যোগ দিয়েছিলেন?

  • (A) জওহরলাল নেহেরু
  • (B) সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল
  • (C) মহাত্মা গান্ধী
  • (D) সরোজিনী নাইডু

সঠিক উত্তর: (C) মহাত্মা গান্ধী

বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ১৯৩১ সালের গান্ধী-আরউইন চুক্তির পর কংগ্রেস আইন অমান্য আন্দোলন স্থগিত করে এবং দ্বিতীয় গোলটেবিল বৈঠকে যোগ দিতে সম্মত হয়। এই বৈঠকে (সেপ্টেম্বর-ডিসেম্বর ১৯৩১) কংগ্রেসের একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে মহাত্মা গান্ধী অংশগ্রহণ করেন। তবে সাম্প্রদায়িক সমস্যা এবং ক্ষমতার হস্তান্তর নিয়ে কোনো ঐকমত্য না হওয়ায় এই বৈঠক ব্যর্থ হয়।

Q. [রাষ্ট্রবিজ্ঞান] কোনো বিল অর্থ বিল (Money Bill) কিনা, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কে নেন?

  • (A) রাষ্ট্রপতি
  • (B) প্রধানমন্ত্রী
  • (C) রাজ্যসভার চেয়ারম্যান
  • (D) লোকসভার স্পিকার

সঠিক উত্তর: (D) লোকসভার স্পিকার

বিস্তারিত ব্যাখ্যা: সংবিধানের ১১০(৩) নং ধারা অনুযায়ী, যদি কোনো বিল অর্থ বিল কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, তবে লোকসভার স্পিকারের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে। তিনি বিলটিকে অর্থ বিল হিসেবে પ્રમાણિત বা certify করেন এবং তাঁর এই সিদ্ধান্তকে কোনো আদালতে চ্যালেঞ্জ করা যায় না।

Q. [ভূগোল] পৃথিবীর দীর্ঘতম পর্বতশ্রেণী কোনটি?

  • (A) হিমালয়
  • (B) রকি পর্বতমালা
  • (C) আন্দিজ পর্বতমালা
  • (D) গ্রেট ডিভাইডিং রেঞ্জ

সঠিক উত্তর: (C) আন্দিজ পর্বতমালা

বিস্তারিত ব্যাখ্যা: আন্দিজ পর্বতমালা দক্ষিণ আমেরিকার পশ্চিম উপকূল বরাবর প্রায় ৭,০০০ কিলোমিটার দীর্ঘ, যা এটিকে পৃথিবীর দীর্ঘতম স্থলভাগের পর্বতশ্রেণীতে পরিণত করেছে। এটি সাতটি দেশের (ভেনেজুয়েলা, কলম্বিয়া, ইকুয়েডর, পেরু, বলিভিয়া, চিলি এবং আর্জেন্টিনা) মধ্যে বিস্তৃত। হিমালয় হল সর্বোচ্চ পর্বতশ্রেণী, কিন্তু দীর্ঘতম নয়।

Q. [ইতিহাস] ‘ফরওয়ার্ড ব্লক’ কে এবং কখন প্রতিষ্ঠা করেন?

  • (A) জওহরলাল নেহেরু, ১৯৩৪
  • (B) সুভাষচন্দ্র বসু, ১৯৩৯
  • (C) এম. এন. রায়, ১৯৪০
  • (D) জয়প্রকাশ নারায়ণ, ১৯৪২

সঠিক উত্তর: (B) সুভাষচন্দ্র বসু, ১৯৩৯

বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ১৯৩৯ সালে ত্রিপুরী কংগ্রেসে গান্ধীজির মনোনীত প্রার্থী পট্টভি সীতারামাইয়াকে পরাজিত করে সুভাষচন্দ্র বসু কংগ্রেসের সভাপতি নির্বাচিত হন। কিন্তু কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির সঙ্গে মতবিরোধের জেরে তিনি সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন এবং কংগ্রেসের অভ্যন্তরেই বামপন্থী একটি গোষ্ঠী হিসেবে ‘ফরওয়ার্ড ব্লক’ প্রতিষ্ঠা করেন।

Q. [রাষ্ট্রবিজ্ঞান] জরুরি অবস্থার (Emergency) সময় কোন দুটি মৌলিক অধিকারকে স্থগিত করা যায় না?

  • (A) ধারা ১৪ এবং ১৯
  • (B) ধারা ১৯ এবং ২১
  • (C) ধারা ২০ এবং ২১
  • (D) ধারা ২১ এবং ২২

সঠিক উত্তর: (C) ধারা ২০ এবং ২১

বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ১৯৭৮ সালের ৪৪তম সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে এই বিধানটি যুক্ত করা হয়। এই সংশোধনী অনুযায়ী, জাতীয় জরুরি অবস্থার সময়ও রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ২০ নং ধারা (অপরাধের জন্য দোষী সাব্যস্ত হওয়া সংক্রান্ত সুরক্ষা) এবং ২১ নং ধারা (জীবন ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অধিকার) স্থগিত করতে পারবেন না।

Q. [ভূগোল] গ্রানাইট শিলা রূপান্তরিত হয়ে কোন শিলায় পরিণত হয়?

  • (A) মার্বেল
  • (B) স্লেট
  • (C) কোয়ার্টজাইট
  • (D) নিস (Gneiss)

সঠিক উত্তর: (D) নিস (Gneiss)

বিস্তারিত ব্যাখ্যা: উচ্চ চাপ ও তাপের প্রভাবে আগ্নেয় শিলা গ্রানাইট রূপান্তরিত হয়ে নিস (Gneiss) শিলায় পরিণত হয়। এই প্রক্রিয়ায় খনিজগুলি ব্যান্ড বা স্তরের আকারে সজ্জিত হয়। একইভাবে, চুনাপাথর মার্বেলে, শেল স্লেটে এবং বেলেপাথর কোয়ার্টজাইটে রূপান্তরিত হয়।

Q. [ইতিহাস] কার রাজত্বকালে চৈনিক পরিব্রাজক ফা-হিয়েন ভারতে আসেন?

  • (A) হর্ষবর্ধন
  • (B) প্রথম চন্দ্রগুপ্ত
  • (C) সমুদ্রগুপ্ত
  • (D) দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত (বিক্রমাদিত্য)

সঠিক উত্তর: (D) দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত (বিক্রমাদিত্য)

বিস্তারিত ব্যাখ্যা: চৈনিক বৌদ্ধ পরিব্রাজক ফা-হিয়েন গুপ্ত সম্রাট দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের রাজত্বকালে (আনুমানিক ৩৯৯-৪১৪ খ্রিস্টাব্দ) ভারতে আসেন। তাঁর মূল উদ্দেশ্য ছিল বৌদ্ধ ধর্মগ্রন্থ সংগ্রহ করা এবং বৌদ্ধ তীর্থস্থানগুলি পরিদর্শন করা। তাঁর ভ্রমণ বৃত্তান্ত ‘ফো-কুও-কি’ (A Record of Buddhist Kingdoms) গুপ্তযুগের সমাজ ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জানার একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস।

Q. [রাষ্ট্রবিজ্ঞান] ভারতের প্রথম লোকপাল কে ছিলেন?

  • (A) আন্না হাজারে
  • (B) বিচারপতি দীপক মিশ্র
  • (C) বিচারপতি পিনাকী চন্দ্র ঘোষ
  • (D) কে. কে. ভেনুগোপাল

সঠিক উত্তর: (C) বিচারপতি পিনাকী চন্দ্র ঘোষ

বিস্তারিত ব্যাখ্যা: লোকপাল এবং लोकायुक्त আইন, ২০১৩ পাস হওয়ার বেশ কয়েক বছর পর, ২০১৯ সালের ২৩শে মার্চ ভারতের রাষ্ট্রপতি কর্তৃক সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি পিনাকী চন্দ্র ঘোষকে ভারতের প্রথম লোকপাল হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। লোকপাল হল একটি দুর্নীতি বিরোধী অম্বুডসম্যান সংস্থা।

Q. [ভূগোল] জিব্রাল্টার প্রণালী কোন দুটি সাগরকে যুক্ত করেছে?

  • (A) লোহিত সাগর ও ভূমধ্যসাগর
  • (B) আটলান্টিক মহাসাগর ও ভূমধ্যসাগর
  • (C) পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগর
  • (D) কৃষ্ণ সাগর ও মার্মারা সাগর

সঠিক উত্তর: (B) আটলান্টিক মহাসাগর ও ভূমধ্যসাগর

বিস্তারিত ব্যাখ্যা: জিব্রাল্টার প্রণালী আটলান্টিক মহাসাগরকে ভূমধ্যসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে এবং ইউরোপ মহাদেশের স্পেনকে আফ্রিকা মহাদেশের মরক্কো থেকে পৃথক করেছে। এর কৌশলগত অবস্থানের জন্য এটিকে ‘ভূমধ্যসাগরের চাবি’ বলা হয়।

Q. [ইতিহাস] ‘নব্যবঙ্গ’ বা ‘ইয়ং বেঙ্গল’ আন্দোলনের অনুপ্রেরণা কে ছিলেন?

  • (A) রাজা রামমোহন রায়
  • (B) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  • (C) হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
  • (D) ডেভিড হেয়ার

সঠিক উত্তর: (C) হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও

বিস্তারিত ব্যাখ্যা: হেনরি ডিরোজিও ছিলেন হিন্দু কলেজের একজন তরুণ অধ্যাপক। তিনি তাঁর ছাত্রদের মুক্তচিন্তা, যুক্তি এবং প্রচলিত প্রথা ও কুসংস্কারকে প্রশ্ন করতে উৎসাহিত করতেন। তাঁর অনুগামীরা ‘ইয়ং বেঙ্গল’ বা ‘নব্যবঙ্গ’ গোষ্ঠী নামে পরিচিত হন। তাঁরা উনিশ শতকের বাংলায় সামাজিক ও ধর্মীয় সংস্কারের ক্ষেত্রে এক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলেন।

Q. [রাষ্ট্রবিজ্ঞান] রাজ্যসভায় কোনো রাজ্যের আসন সংখ্যা কিসের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়?

  • (A) রাজ্যের আয়তন
  • (B) রাজ্যের জনসংখ্যা
  • (C) রাজ্যের സാക്ഷরতার হার
  • (D) রাজ্যের মাথাপিছু আয়

সঠিক উত্তর: (B) রাজ্যের জনসংখ্যা

বিস্তারিত ব্যাখ্যা: সংবিধানের চতুর্থ তফসিলে রাজ্যসভায় প্রতিটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের জন্য আসন বরাদ্দের তালিকা দেওয়া আছে। এই আসন বণ্টন মূলত রাজ্যের জনসংখ্যার অনুপাতে করা হয়, যদিও এটি কঠোরভাবে আনুপাতিক নয়। বেশি জনসংখ্যার রাজ্যগুলি বেশি আসন পায়।

Q. [ভূগোল] ‘কালবৈশাখী’ ঝড় পশ্চিমবঙ্গ এবং পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে কোন সময়ে দেখা যায়?

  • (A) শীতকালে (ডিসেম্বর-জানুয়ারি)
  • (B) বর্ষার শুরুতে (জুন-জুলাই)
  • (C) প্রাক-বর্ষা ঋতুতে (এপ্রিল-মে)
  • (D) শরৎকালে (সেপ্টেম্বর-অক্টোবর)

সঠিক উত্তর: (C) প্রাক-বর্ষা ঋতুতে (এপ্রিল-মে)

বিস্তারিত ব্যাখ্যা: কালবৈশাখী হল একটি স্থানীয় বজ্রবিদ্যুৎসহ ঝড় যা গ্রীষ্মের শেষভাগে বা প্রাক-বর্ষা ঋতুতে (সাধারণত এপ্রিল ও মে মাসে) পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, ওড়িশা এবং বাংলাদেশে সংঘটিত হয়। ছোটনাগপুর মালভূমির উপর সৃষ্ট স্থানীয় নিম্নচাপ এবং বঙ্গোপসাগর থেকে আসা আর্দ্র বায়ুর সংমিশ্রণে এই ঝড় তৈরি হয়। যদিও এটি ধ্বংসাত্মক, তবে এই বৃষ্টি ধান ও পাট চাষের জন্য উপকারী।

Q. [ইতিহাস] ‘সর্বভারতীয় হরিজন সংঘ’ (All India Harijan Sangh) কে প্রতিষ্ঠা করেন?

  • (A) ড. বি. আর. আম্বেদকর
  • (B) জ্যোতিবা ফুলে
  • (C) মহাত্মা গান্ধী
  • (D) জগজীবন রাম

সঠিক উত্তর: (C) মহাত্মা গান্ধী

বিস্তারিত ব্যাখ্যা: পুনা চুক্তির পর, মহাত্মা গান্ধী অস্পৃশ্যতা দূরীকরণের কাজে নিজেকে সম্পূর্ণরূপে নিয়োজিত করেন। এই উদ্দেশ্যে তিনি ১৯৩২ সালে ‘সর্বভারতীয় অস্পৃশ্যতা-বিরোধী লীগ’ (All-India Anti-Untouchability League) প্রতিষ্ঠা করেন, যা পরবর্তীতে ‘হরিজন সেবক সংঘ’ নামে পরিচিত হয়। তিনি ‘হরিজন’ (ঈশ্বরের সন্তান) নামক একটি পত্রিকাও প্রকাশ করেন।

আপনি  কি wbp constable Exam এর পরিক্ষার্থী wbp gk syllabus 2025 দেখেছেন wbp gk syllabus অনুযায়ী ভালো ভাবে প্রস্তুতি নিতে wbp gk question দেখুন আর wbp gk practice set এ বিভিন্ন wbp gk mock test গুলো দিন wbp gk practice set pdf ও নিতে পারেন আপনি wbp gk syllabus pdf download করে wbp gk mock test দিন আর wbp gk practice set এ wbp gk question গুলো দেখুন wbp gk book ও নিতে পারেন বা wbp gk pyq গুলো দেখে নিতে পারেন gk book for wbp খুঁজে দেখুন অথবা এভাবে চালিয়ে যান gk question for wbp constable অথবা gk practice set for wbp প্রস্তুতি এভাবে ও নেওয়া যায় gk practice set for wbp constable তাছাড়া best gk book for wbp খুঁজে নিন যেখানে wbp constable gk syllabus অনুযায়ী প্রশ্ন উত্তর থাকবে wbp constable gk book pdf নিয়েও পড়া যায় wbp gk practice set pdf নিয়ে পড়ুন এবং wbp constable gk mock test দিন wbp constable gk question paper গুলো দেখুন

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top